আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩১ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
নেপালের আকস্মিক বন্যায় এখন পর্যন্ত ৯০০ জনের বেশি মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে নেপালি কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে অনেকেরই মৃতদেহ শনাক্ত করা যায়নি। যে কারণে মৃতদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না।
নেপালি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আকস্মিক এই বন্যার পর উদ্ধার হওয়া ৯০০টিরও বেশি মৃতদেহের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র প্রায় চার শতাংশ মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-মুখপাত্র ডা. সমীর কুমার অধিকারী বলছেন, যে মৃতদেহগুলো অক্ষত ও শনাক্তযোগ্য ছিল, সেগুলো আত্মীয়স্বজনরা শনাক্ত করে নিয়ে গেছেন। কারও স্কুলের টাই, কারও ট্যাটু, আবার কারও কানের দুল দেখে প্রিয়জনের মরদেহ শনাক্ত করতে হচ্ছে। আর যে মৃতদেহগুলো শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না সেগুলো আপাতত সৎকার করা হবে।
নেপালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বন্যার প্রথম বা দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত কিছু অক্ষত মৃতদেহ পাওয়া গেলেও, দিন বাড়ার সাথে সাথে পচনশীল মৃতদেহের পরিমাণ বাড়ছে। ফলে কর্তৃপক্ষ মনে করছে সেগুলো এখন আর ডিএনএ নমুনা ছাড়া শনাক্ত করা সম্ভব না। যে কারণে যে মৃতদেহগুলোতে পচন ধরে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না সেগুলো অস্থায়ীভাবে সৎকারের কাজ শুরু হয়েছে।
নেপালের প্রশাসন জানিয়েছে, যেসব মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না, সেগুলোর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর সেখানেই দাফন করা হবে।
এছাড়াও ধারণা করা হচ্ছে যে বন্যার পর বিভিন্ন বিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গগুলোতে প্রায় ৯৩৩ জন মানুষ আটকা পড়েছেন। আটকা পড়াদের উদ্ধারে বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ দল এসে যোগ দিয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত একাধিক জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুরঙ্গ থেকে নতুন করে কাউকে উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়নি।
রাসুয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উদ্ধারকারী দল ড্রোন ব্যবহার করে সুড়ঙ্গটির শেষ প্রান্তে পৌঁছালেও কারো খোঁজ পায়নি। সুড়ঙ্গে অনেক শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হলেও নতুন করে সেখান থেকে কাউকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে বিপর্যয়ের ধাক্কা সামলানোর মধ্যেই নতুন করে বন্যার আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। সাম্প্রতিক বন্যায় সবচেয়ে রাসুয়ায় নতুন করে আরেকটি হিমবাহ হ্রদ ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে নেপালি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাসুয়ার ‘লেক টু’ হিমবাহে পানি জমতে শুরু করেছে।
নেপালের বন্যা পূর্বাভাস বিভাগের প্রধান বিনোদ পরাজুলি বলেছেন, চীনের তথ্য অনুযায়ী হিমবাহ হ্রদটিতে আনুমানিক সাড়ে ছয় লাখ ঘনমিটার পানি জমেছে।
তিনি বলেন, ‘ধীরে ধীরে এই হিমবাহ হ্রদটি ভরাট হয়ে যাচ্ছে পানিতে। তাই সেটিতে ফাটল দেখা দেওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।’
সূত্র: বিবিসি
এমএইচআর