আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩১ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৯ এএম
ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের একটি আটককেন্দ্র থেকে নিজের দুটি ছবি প্রকাশ করেছেন।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনীর হাতে অপহরণের পর এই প্রথম তিনি কোনো ছবি প্রকাশ করলেন।
মাদুরোর উত্তরসূরি অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রকে ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ দিয়ে একটি ‘ঐতিহাসিক’ তেল চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার দুই দিন পর মাদুরোর এই বার্তা প্রকাশিত হলো।
এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। ছবিতে মাদুরোকে ধূসর ট্র্যাকস্যুট পরা অবস্থায় দেখা যায়। হাতের দুই আঙুল তুলে তিনি ‘ভি’ চিহ্ন দেখাচ্ছেন। তাকে আগের তুলনায় অনেকটা শুকনো লাগছে।
মাদুরো স্প্যানিশ ভাষায় সামাজিক মাধ্যম এক্স ও টেলিগ্রামে ছবিগুলো পোস্ট করে জানান, এগুলো তার নাতি-নাতনি, শিশু-কিশোর এবং যারা তাদের ভালোবাসেন—সবার জন্য ছোট্ট উপহার।
তিনি বলেন, ‘আমরা দৃঢ় আছি, আমাদের হৃদয় আপনাদের ভালোবাসায় পূর্ণ।’
মাদুরো জানান, তারা (তিনি ও তার স্ত্রী) শক্ত, শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী থাকবেন এবং ঈশ্বর তাদের সঙ্গে আছেন। পাশাপাশি তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভেনেজুয়েলা আবার ঘুরে দাঁড়াবে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ধরে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায়।
বর্তমানে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের একটি আটককেন্দ্রে তাদের রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগ রয়েছে, তবে তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মাদুরোর প্রকাশ করা ছবির তথ্য অনুযায়ী, এগুলো ২৫ জুন তোলা হয়েছিল। এর একদিন আগে উত্তর ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে ৬ হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
তবে ছবিগুলো সত্যিই আটককেন্দ্রে তোলা হয়েছে কি না এবং কর্তৃপক্ষ এগুলো প্রকাশের অনুমতি দিয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত নয়। বার্তা সংস্থা এএফপি এ বিষয়ে আটককেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাৎক্ষণিক কোনো জবাব পায়নি।
কারাগারে মাদুরোর পত্রিকা বা ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ নেই। তবে পরিবার ও আইনজীবীদের সঙ্গে মাসে প্রায় ৩০০ মিনিট ফোনে কথা বলার অনুমতি রয়েছে। প্রতিটি কল সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট স্থায়ী হতে পারে।
নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত জানিয়েছে, মাদুরো ও তার স্ত্রীর বিচার ২০২৭ সালের ১ জুন শুরু হওয়ার কথা।
এমএমএস