Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

পচছে মরদেহ, ফুরোচ্ছে আশা; মর্গে পরিচয়হীন লাশের সারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩১ এএম

চারপাশে শুধু কাদা। তার মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ভাঙা বাড়ি, উপড়ে পড়া গাছ। নেপালের টিমুর গ্রামের কোনো কিছুই যেন আস্ত নেই। ইট-কাঠ আর গাছের গুঁড়ি সরিয়ে চলছে উদ্ধারকাজ। কিন্তু বিপর্যয়ের পাঁচ দিন পেরিয়ে যাওয়ায় জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছেন উদ্ধারকারীরা।

এরই মধ্যে যেসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে সেগুলোতে পচন ধরতে শুরু করেছে। মর্গগুলোতে বাড়ছে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের ভিড়। তবে অনেক মরদেহের মুখ দেখে পরিচয় শনাক্ত করা যাচ্ছে না। কারও স্কুলের টাই, কারও পরনের গয়না, আবার কারও শরীরের ট্যাটু দেখে স্বজনেরা প্রিয়জনের মরদেহ শনাক্ত করছেন।

সোমবার সকাল পর্যন্ত নেপালের ভয়াবহ এই বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০৪ জনে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন আড়াই হাজারের মতো মানুষ।

nepal_2বিপর্যয়ের পর থেকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনেরা মর্গে ভিড় করছেন। মরদেহগুলোর বেশির ভাগে পচন ধরতে শুরু করায় অনেকের মুখ দেখে চেনার উপায় নেই। ফলে পরিচয়ের অন্য চিহ্নই এখন স্বজনদের ভরসা।

কারও স্কুলের টাই, কারও ট্যাটু, আবার কারও কানের দুল দেখে প্রিয়জনের মরদেহ শনাক্ত করতে হচ্ছে। যেসব মরদেহ শনাক্ত করা যাচ্ছে না, সেগুলোর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরে নমুনা সংরক্ষণ করে মরদেহগুলো গণকবর দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

রাসুয়ার বিপর্যস্ত এলাকা থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে চিতওয়ান জেলার দেবঘাট জঙ্গলে গণকবরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে শত শত কবর খোঁড়া হয়েছে।

nepal_4নেপালের প্রশাসন জানিয়েছে, যেসব মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না, সেগুলোর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর সেখানেই দাফন করা হবে। চিতওয়ানের জেলা প্রশাসক গণেশ আরিওয়াল বলেন, ‘আমাদের আর কোনো উপায় ছিল না। তাই এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছি। মরদেহগুলোতে পচন ধরতে শুরু করেছে।’

শনিবার ওই জঙ্গলে ৯৬টি মরদেহ দাফন করা হয়েছিল। রবিবারও সেখানে আরও মরদেহ দাফন করা হয়।

এখনো নিখোঁজ হাজারো

সোমবার সকাল পর্যন্ত নেপালের বিপর্যস্ত এলাকাগুলো থেকে ৮০৪টি মরদেহ উদ্ধার করার খবর পাওয়া গেছে। এখনো নিখোঁজ আছেন আড়াই হাজার। জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল সাড়ে ৯ হাজার মানুষকে।

রেড ক্রসের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বুধবারের এই বিপর্যয়ে আনুমানিক ৯০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

নতুন বন্যার আশঙ্কা

বিপর্যয়ের ধাক্কা সামলানোর মধ্যেই নতুন করে বন্যার আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। হিমালয়ের উঁচু এলাকায় তৈরি হওয়া দুটি জলাধার বা ‘বেরিয়ার লেক’-এর ওপর নজর রাখছে প্রশাসন।

এর মধ্যে একটি হ্রদের জলস্তর কমেছে। তবে অন্যটির আয়তন বাড়ার খবর পাওয়া গেছে। ফলে সেখানে নতুন করে পানির স্ফীতি হলে আবারও বন্যা ও বিপর্যয় তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

nepal_floodদুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণকাজ অব্যাহত রয়েছে। সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে শিশু, প্রবীণ ও আহতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্রমেই কমে আসছে।

এমআর