Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

ইরানে পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম

প্রচলিত সামরিক উপায়ে ইরান সরকারকে উৎখাত করতে ব্যর্থ হওয়ার পর ওয়াশিংটন দেশটির বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পথ বেছে নিতে পারে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টার’-এর সাবেক পরিচালক জো কেন্ট। 

গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) প্রখ্যাত মার্কিন রাজনৈতিক ভাষ্যকার, সাংবাদিক টাকার কার্লসনের পডকাস্ট ‘কার্লসনের শো’তে অংশ নিয়ে এই বিস্ফোরক দাবি করেন ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক এই শীর্ষ কর্মকর্তা।

গত এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, তেহরান ওয়াশিংটনের দাবি মেনে না নিলে ইরানের ‘পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে’। এরপর থেকে ট্রাম্প বারবার একই ধরনের হুমকি দিয়ে বলেছেন, মার্কিন বাহিনী বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুসহ দেশটির বেসামরিক অবকাঠামো নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে।

ট্রাম্পের এই হুমকিকে পারমাণবিক হামলা আশঙ্কাকে আরও উস্কে দিচ্ছে উল্লেখ করে কেন্ট বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে যখন ট্রাম্প প্রশাসন একটি সমাধানের পথ খুঁজছে, তখন এটা (পারমাণবিক হামলা) ঘটতে পারে না—এমনটা ভাবাটা বোকামি হবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, মার্কিন সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার সম্পূর্ণ পরিসর ব্যবহার করা সত্ত্বেও ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সংঘাতে তার ক্রমাগত পরিবর্তনশীল কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

কেন্টের মতে, ওয়াশিংটন যদি এখনও ইরানের নেতৃত্বকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করে ‘সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণে’ বাধ্য করতে বদ্ধপরিকর থাকে, তাহলে ট্রাম্পের হাতে মাত্র দুটি বিকল্পই অবশিষ্ট রয়েছে; একটি পূর্ণাঙ্গ স্থল অভিযান অথবা পারমাণবিক হামলা।

তবে ইরানের বিশাল ভূখণ্ড ও জনসংখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমটি কোনোভাবেই সম্ভব নয়— দাবি করেন কেন্ট।

তিনি বলেন, ‘আপনি যদি এই পরিস্থিতিটি যথেষ্ট দীর্ঘ সময় ধরে কল্পনা করতে থাকেন, তাহলে বেশ দ্রুতই গণবিধ্বংসী অস্ত্রের পর্যায়ে পৌঁছে যাবেন।’ 

কেন্ট আরও দাবি করেন, ওয়াশিংটন মূলত ইরানের পার্বত্য অঞ্চলে লুকিয়ে থাকা ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোর ওপর একটি সীমিত পারমাণবিক হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

প্রসঙ্গত, জো কেন্ট মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক হওয়া সত্ত্বেও চলতি বছরের মার্চ মাসে মার্কিন-ইরান যুদ্ধ শুরু করার প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছিলেন। তিনি বরাবরই দাবি করে আসছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি ছিল না, বরং ইসরায়েলি চাপে ট্রাম্পকে এই যুদ্ধে জড়ানো হয়েছে।

এদিকে সম্প্রতি প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উঠে আসে, ইরানের বিরুদ্ধে দফায় দফায় বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে গিয়ে পেন্টাগন তাদের উচ্চ-নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র দ এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যাবস্থার ইন্টারসেপ্টরের মজুত প্রায় শেষ করে ফেলেছে। এই সামরিক অচলাবস্থার কারণেই পারমাণবিক বিকল্পের আশঙ্কা প্রকট হচ্ছে।

ট্রাম্প এবং আরও বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা অস্ত্র সংকটের দাবি জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন এবং জোর দিয়ে বলেছেন যে পেন্টাগনের হাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে অস্ত্রশস্ত্র রয়েছে। তবে যুদ্ধকৌশল পরিবর্তনের কারণে হামলা বন্ধ রয়েছে।

গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘বিধ্বংসী অর্থনৈতিক অভিযান’ শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন, যাকে তিনি ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ আখ্যা দিয়েছেন। এর আওতায় চীনের ২১টি প্রতিষ্ঠানসহ বিশ্বের ৬০টি সংস্থা ও ব্যক্তির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

সূত্র: আরটি, এপি

এমএইচআর