আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১২ পিএম
উত্তর সাইপ্রাসের (টিআরএনসি) উপকূলের কাছে প্রায় ২৬৮ জন আরোহী নিয়ে একটি যাত্রীবাহী ফেরি (ক্যাটামারান) ডুবে গেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৭ জনের মরদেহ উদ্ধর করা হয়েছে এবং ২৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
রয়টার্স জানিয়েছে, রোববার (৩০ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বেসরকারী ফেরিটি উত্তর সাইপ্রাসের কিরেনিয়া বন্দর থেকে তুরস্কের তাসুজু বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কিন্তু উপকূল থেকে মাত্র ৪ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ৭.৫ কিলোমিটার) দূরে এতে হঠাৎ পানি ঢুকতে শুরু করে। এক পর্যায়ে ফেরিটি উল্টে যাওয়ায় যাত্রীরা সমুদ্রে ভাসতে থাকেন।
এদিকে ক্যাপ্টেন বিপদ সংকেত পেয়ে কোস্ট গার্ড ও বন্দর কর্তৃপক্ষ হেলিকপ্টার এবং আশপাশে থাকা বিভিন্ন নৌযান উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়।
ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, লাল লাইফ জ্যাকেট পরা লোকজন উল্টে যাওয়া ফেরিটির ওপরে দাঁড়িয়ে আছেন এবং সাহায্য চাইছেন। এছাড়াও বহু যাত্রী লাইফ জ্যাকেট পরে আশপাশের পানিতে অবস্থান করছিলেন।
ফেরিটিতে ২৫৯ জন যাত্রী এবং ৮ জন ক্রুসহ মোট ২৬৭ জন আরোহী ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন উত্তর সাইপ্রাসের পরিবহনমন্ত্রী এরহান আরিকলি।
এদিকে সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন তুর্ককে দেওয়া স্বাক্ষাতকারে তুর্কি সাইপ্রিয়ট নেতা তুফান এরহুরমান জানান, ২৩৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, সাতজন মারা গেছেন এবং ২৩ জনের সন্ধান এখনও চলছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা ২৩৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে পেরেছি। তবে, আমরা আরও সাতজনের দেহ উদ্ধার করেছি যারা প্রাণ হারিয়েছেন। এতে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত।’
নৌকাডুবির কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে এরহুরমান শনিবারের ঝড়ের কথা উল্লেখ করলেও বলেন, নৌযানটি কেন হঠাৎ পানি নিতে শুরু করল এবং প্রতিকূল আবহাওয়া দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে উত্তর সাইপ্রাসের প্রধানমন্ত্রী উনাল উস্তেল জানান, উদ্ধারকৃত যাত্রীদের কাইরেনিয়া বন্দরে আনা হয়েছে এবং তাদের হাসপাতালে স্থানান্তর করা হবে।
তিনি আরও বলেন, উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা নিখোঁজদের সন্ধান এবং আহতদের চিকিৎসাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স, আনাদোলু
এমএইচআর