আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যকার ত্রিদেশীয় ঐতিহাসিক 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি'তে বাংলাদেশের যোগদানের আগ্রহ নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসলামাবাদ।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে পাকিস্তানের অবস্থান স্পষ্ট করেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি।
তিনি বলেন, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি একটি পরিবর্তনশীল ও ক্রমবিকাশমান নিরাপত্তা কাঠামো। যৌথ দায়বদ্ধতা এবং সাধারণ নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষায় আগ্রহী যেকোনো দেশের জন্যই এই জোট উন্মুক্ত।
তাহির আন্দ্রাবি বলেন, বাংলাদেশ বা অন্য কোনো দেশের পক্ষ থেকে চুক্তিতে যোগদানের কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ আসলে তা সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পরামর্শ করে বিবেচনা করা হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই চুক্তির সার্বিক কার্যক্রম ও বাস্তবায়ন এখনও একদম প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
এরআগে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, চুক্তিটি শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে তৈরি এবং এতে অন্য দেশগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহের ইঙ্গিত এসেছে।
সম্প্রতি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এর আগে বলেছিলেন, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতার কোনো ব্যবস্থা থাকলে বাংলাদেশ তাতে অংশ নেওয়ার বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে করে না। বিষয়টি বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে দেখছে।
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে বিশ্ব মুসলিম সমাজের আত্মরক্ষার ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘এটা আমাদের পরিবার। এটা মুসলিম পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তা নিয়ে অন্যান্যদের উদ্বেগের অবকাশ নেই।’
এচাড়াও গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আরও স্পষ্ট করে বলেন, মক্কা চুক্তির বর্তমান সদস্যরা বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানালে ঢাকা বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।
তবে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় আসেনি।
প্রসঙ্গত, গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান মক্কায় একটি গুরুত্বপূর্ণ যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে।
‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে ওই চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। কোনো সদস্য আক্রান্ত হলে বাকি দুই দেশ তাকে সামরিক ও কৌশলগত সহায়তা দিতে বাধ্য থাকবে, যা পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ‘আর্টিকেল-৫’ এর মতো একটি যৌথ প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
সূত্র: আনাদোলু
এমএইচআর