Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

ভারতে বাংলাভাষী মুসলিমসহ অন্য জাতিগোষ্ঠীর ওপর নিপীড়ন, জাতিসংঘের উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৬ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪০ পিএম

ভারতে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী, বাংলাভাষী মুসলিম ও দলিত সম্প্রদায়ের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিপীড়নের খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের বর্ণবৈষম্য বিলোপ কমিটি (ইউএনসিইআরডি)। এসব ঘটনার অবিলম্বে, পুঙ্খানুপুঙ্খ ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে কমিটি।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারতে বর্ণবাদী সহিংসতা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া অন্যায় ও দীর্ঘমেয়াদি আটক, নির্যাতন, অপব্যবহার ও যৌন সহিংসতার মতো নিপীড়নের খবর পাওয়া যায়। ২০১৭ সালের ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলে কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার পর বিশেষ করে রোহিঙ্গা, বাংলাভাষী মুসলিম, অভিবাসী ও রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের লক্ষ্য করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে।

পুলিশি তল্লাশি ও পরিচয় যাচাইয়ের নামে বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার ও আটকের পাশাপাশি নির্যাতন ও অপব্যবহারের ঘটনাও ঘটছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সুরক্ষার প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও নন-রিফৌলমেন্ট নীতি লঙ্ঘন করে মানুষকে জোর করে ফেরত পাঠানোর ঘটনা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে কমিটি। নন-রিফৌলমেন্ট হলো শরণার্থীদের ঝুঁকিপূর্ণ দেশে ফেরত না পাঠানোর আন্তর্জাতিক নীতি।

রোহিঙ্গা, বাংলাভাষী মুসলিম, অভিবাসী ও রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও ঘৃণাপ্রসূত অপরাধ বন্ধে ভারতকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইউএনসিইআরডি। একই সঙ্গে তাদের অধিকার রক্ষা, ঢালাও বহিষ্কার বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক সুরক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে।

ইউএনসিইআরডির পর্যবেক্ষণ প্রত্যাখ্যান ভারতের

ইউএনসিইআরডির পর্যবেক্ষণকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অত্যন্ত বিদ্বেষপূর্ণ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই জানায়, আজ বুধবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ অবস্থানের কথা জানিয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ১১ ও ১২ আগস্ট অনুষ্ঠিত বর্ণবৈষম্য বিলোপবিষয়ক আন্তর্জাতিক সনদের (আইসিইআরডি) আওতায় ভারতের ১১তম পর্যায়ক্রমিক পর্যালোচনার পর কমিটির প্রকাশিত মন্তব্য তারা লক্ষ্য করেছে। পর্যালোচনা প্রক্রিয়ায় ভারত তার সাংবিধানিক সুরক্ষা, বিস্তৃত আইনি কাঠামো, বহুত্ববাদী সংস্কৃতি এবং অনগ্রসর গোষ্ঠীগুলোর সুরক্ষায় নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেছে।

উল্লেখ্য, বর্ণবৈষম্য বিলোপবিষয়ক সনদে ১৮২টি দেশ স্বাক্ষর করেছে। ১৯৬৯ সালে কার্যকর হওয়া এই সনদ অনুযায়ী, সদস্যদেশগুলোকে বর্ণবৈষম্য দূর করা, জাতিগত পৃথক্‌করণের চর্চা বিলুপ্ত করা এবং আইনের চোখে সবার সমতা নিশ্চিত করতে হয়। দেশগুলো সনদ কতটা মেনে চলে, তা তদারক করে ১৮ জন স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে গঠিত প্যানেল ইউএনসিইআরডি।

এআর