আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম
হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের ৪৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাংকারকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে ইরান।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দেশটির নবগঠিত ‘পারস্য উপসাগরীয় প্রণালি কর্তৃপক্ষ’ (পিজিএসএ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেয়।
বিবৃতিতে ইরানের এই সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের দাবি, কালো তালিকাভুক্ত এই জাহাজগুলো পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি পারাপারের সময় নির্দিষ্ট ট্রাফিক নিয়ম এবং পরিবেশগত নিরাপত্তা আইন অমান্য করেছে।
ইরানের নিয়ম বলতে কী বোঝানো হয়েছে বিবৃতিতে তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি, তবে তেহরান অতীতে বলেছে যে প্রণালিটি অতিক্রম করার জন্য জাহাজ মালিকদের তাদের ছাড়পত্র নিতে হবে এবং জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা ও অন্যান্য পরিষেবার জন্য অর্থ প্রদান করতে হবে।
পিজিএসএ হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এই ৪৫টি জাহাজ হরমুজ প্রণালির ইরানি জলসীমা বা এর সংলগ্ন এলাকায় প্রবেশ করলে কঠোর আইনি ও সামরিক পদক্ষেপের মুখোমুখি হবে। সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে রয়েছে মোটা অঙ্কের জরিমানা, জাহাজ সাময়িকভাবে আটক এবং কার্গো বা পণ্য জব্দ করা।
এছাড়া একটি কড়া শর্ত জুড়ে দিয়ে ইরান জানিয়েছে, এই তালিকায় থাকা কোনো জাহাজের সঙ্গে যদি অন্য কোনো নৌযান মাঝসমুদ্রে পণ্য স্থানান্তর করে, তবে সেই সহযোগী নৌযানকেও তাৎক্ষণিকভাবে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে।
ইরানের তৈরি এই ‘নন-কমপ্লায়েন্ট’ বা আইন অমান্যকারী তালিকার সিংহভাগই জ্বালানি ও রাসায়নিক পরিবহনকারী বড় বড় নৌযান। এর মধ্যে রয়েছে অতি বৃহৎ অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার, রাসায়নিক ও পণ্যবাহী ট্যাংকার, পরিশোধিত বা ক্লিন পেট্রোলিয়াম পণ্য পরিবহনকারী জাহাজ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)-বাহী জাহাজ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয, কালো তালিকায় মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি শিপিং জায়ান্টের নাম এসেছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির রাষ্ট্রীয় কোম্পানি- এডনক লজিস্টিকস অ্যান্ড শিপিং-এর সরাসরি ব্যবস্থাপনায় থাকা ৮টি জাহাজ এবং এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘নেভিগ৮ ট্যাংকারস’-এর বেশ কিছু নৌযান এই তালিকায় রয়েছে।
অন্যদিকে সৌদি আরবের জাতীয় শিপিং কোম্পানি ‘বাহরি’-এর মালিকানাধীন একাধিক তেল ট্যাংকারও ইরানের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে নরওয়েভিত্তিক ক্ল্যাভেনেস শিপ ম্যানেজমেন্ট, স্টল্ট ট্যাংকারস এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সিনোকর কোম্পানির বাণিজ্যিক জাহাজও তালিকায় স্থান পেয়েছে।
|
ক্রমিক
|
জাহাজের নাম
|
আইএমও নম্বর
|
|
১
|
কিকু
|
৯৩২৯৭৯৬
|
|
২
|
মুবারাজ
|
৯০৭৪৬২৬
|
|
৩
|
মিনোয়ান অগ্রদূত
|
৯৪৭১৬৩০
|
|
৪
|
হাফিত
|
৯৯২৮০০৯
|
|
৫
|
আল রেকায়াত
|
৯৩৯৭৩৩৯
|
|
৬
|
ওয়েডিয়ান
|
৯৫২৪৯৭০
|
|
৭
|
সাইপ্রাস-প্রোসপারিটি
|
৯৫৯৫২১৬
|
|
৮
|
আল রাওদাহ
|
৯৭৩৪৫১৩
|
|
৯
|
রাশিদা
|
৯৪৪৩৪১৩
|
|
১০
|
লেব্রেথা
|
৯৯৭৬৯২৭
|
|
১১
|
লীলা ভাদিনার
|
৯৩২৪১০০
|
|
১২
|
মহা রুস
|
৯২৩১০০৪
|
|
১৩
|
জিএফএস গ্যালাক্সি
|
৯৪০১২৭১
|
|
১৪
|
আল বাহিয়াহ
|
৯৯৩৭৭৯৯
|
|
১৫
|
মোম্বাসা বি
|
৯৭৩৯৫০১
|
|
১৬
|
স্টোল্ট ম্যাগনেসিয়াম
|
৯৭৩৯৩১৭
|
|
১৭
|
আল ওয়াতান
|
৯৬১৫০৩০
|
|
১৮
|
নেভিগেট মেসি
|
৯৪৮২৮৫৯
|
|
১৯
|
সিঙ্গাপুর-প্রোসপারিটি
|
৯৪১৯৯৬৭
|
|
২০
|
দিশা
|
৯২৫০৭১৩
|
|
২১
|
গ্যাসলগ সাংহাই
|
৯৬০০৫২৮
|
|
২২
|
লুবনা
|
৯৪৮৯০৬৫
|
|
২৩
|
হাজি ১
|
৭৮০২৫৯৮
|
|
২৪
|
রিউজিন
|
৮২০৬৮১৮
|
|
২৫
|
আনা বারবারা
|
৯৪০৭৫০০
|
|
২৬
|
সানবার্ড অ্যারো
|
৯৩২৩৮২১
|
|
২৭
|
মিনোয়ান ডিগনিটি
|
৯২৯৪৪৮৪
|
|
২৮
|
মারিয়া
|
৯৯১৭৮২৮
|
|
২৯
|
কাভোমালিয়াস
|
১০৪২৮২৩
|
|
৩০
|
মারদান
|
৯৩৬০৪৫৩
|
|
৩১
|
সুইডেন-প্রোসপারিটি
|
৯৫৮৮৩৯২
|
|
৩২
|
জারনাইন
|
৯৮২৩৫৪৭
|
|
৩৩
|
কাইফান
|
৯৬৫৬০৪৬
|
|
৩৪
|
নিসোস কেয়া
|
৯৯২০৭৫৮
|
|
৩৫
|
রটারডাম এনার্জি
|
৯৫০৮৮৫৯
|
|
৩৬
|
আল হামরা
|
৯০৭৪৬৪০
|
|
৩৭
|
উম্ম আল আশতান
|
৯০৭৪৬৫২
|
|
৩৮
|
ম্যারিগোল্ড লং
|
৯২৩০০৬২
|
|
৩৯
|
বানাস্টার
|
৯২২৮০৪৫
|
|
৪০
|
নাভারা
|
৯২৪১৭৯৮
|
|
৪১
|
নিসোস হেরাক্লিয়া
|
৯৪১৯৬১৮
|
|
৪২
|
নীল তারকা ১
|
৯২১৫১১৫
|
|
৪৩
|
অ্যাশলি
|
৯২৫৮৪৬৬
|
|
৪৪
|
ম্রাওয়েহ
|
৯০৭৪৬৩৮
|
|
৪৫
|
আল লুলু
|
৯৫৮৩৬২৭
|
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তেহরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকির পরপরই ইরান এই পাল্টা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিল।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি কোনো স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নয়। কোনো জাহাজ বা কোম্পানি যদি এই কালো তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দিতে চায়, তবে উপযুক্ত প্রমাণ ও ব্যাখ্যাসহ ইরানের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক আপিল বা আবেদন জমা দিতে হবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে ইরানের এই কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও নৌ-বাণিজ্যের নিরাপত্তাকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স, মিডল ইস্ট আই
এমএইচআর