আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২২ আগস্ট ২০২৬, ০১:১৪ পিএম
বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করার ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত প্রস্তাবনা বাতিল করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত।
নিউইয়র্কের ম্যানহাটন জেলা আদালতের বিচারক জ্যানেট ভার্গাস শুক্রবার (২১ আগস্ট) এক রায়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর জারি করা এই নীতিকে ‘সম্পূর্ণ বেআইনি’ আখ্যা দেন।
বিচারক তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, কনস্যুলার কর্মকর্তাদের মাধ্যমে অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের সরাসরি হস্তক্ষেপ করার যে চেষ্টা, তা ফেডারেল অভিবাসন আইনের পরিপন্থী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতার বাইরে।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ট্রাম্প প্রশাসন এক ঘোষণার মাধ্যমে এসব দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা স্থগিত করেছিল। এই তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ ও পাকিস্তান; লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও উরুগুয়ে; বলকান অঞ্চলের বসনিয়া ও আলবেনিয়া ছাড়াও আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের একাধিক দেশ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর এর আগে দাবি করেছিল, এই ৭৫টি দেশের ভিসা আবেদনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ‘সরকারি আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল বা পাবলিক চার্জ (আর্থিকভাবে সরকারের ওপর নির্ভরশীল)’ হয়ে পড়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন’।
তবে বিচারক জ্যানেট ভার্গাস রায়ে স্পষ্ট করেন, কেবল আবেদনকারীর জাতীয়তার ওপর ভিত্তি করে ঢালাওভাবে অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা বিদ্যমান আইনি কাঠামোর সরাসরি লঙ্ঘন।
মানবাধিকার সংস্থা ‘ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক’ ও ‘আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার’ ছাড়াও বেশ কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত ভিসা আবেদনকারী এবং যুক্তরাষ্ট্রে স্বজনদের নিয়ে যেতে চাওয়া মার্কিন নাগরিকেরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলাটি করেছিলেন।
উল্লেখ্য, রায় দেওয়া বিচারক ভার্গাস সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হন।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে অভিবাসনবিরোধী কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এসব নীতিমালার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বাক্স্বাধীনতা ও সঠিক আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বিশেষ করে জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা এই ধরনের সিদ্ধান্তের কারণে বৈষম্য ও নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হচ্ছেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অধিকারকর্মীরা।
আদালতের এই রায়ের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এফএ