Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২০ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৭ পিএম

চলতি বছরের শুরুতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে চার পুলিশ কর্মকর্তা হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।

দেশটির বিচার বিভাগ পরিচালিত রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম মিজান অনলাইন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানের ইসফাহান শহরের কেন্দ্রীয় কারাগারে গায়েম হোসেনি নামের ২১ বছর বয়সী এক বিদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তবে তার নাগরিকত্বের কথা উল্লেখ করেনি ইরানি কর্তৃপক্ষ।

এদিকে নরওয়ে-ভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) গ্রুপ জানিয়েছে, ২১ বছর বয়সী ওই যুবক আফগানিস্তানের নাগরিক ছিলেন, যিনি আরিয়ান নামেও পরিচিত ছিলেন। 

মিজান অনলাইন জানিয়েছে, গত জানুয়ারিতে ইসফাহানের আলিখানি চত্বরে সংঘটিত সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলার সময় আইন প্রয়োগকারী ৪ সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে ‘আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’ (মোহারেবা) এবং পৃথিবীতে দুর্নীতি ছড়ানোর (ইফফাদ ফিল-আরজ) মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়।

রাষ্ট্রীয় ভাষ্যমতে, গত ৮ জানুয়ারি বিক্ষোভে দায়িত্ব পালনের সময় স্পেশাল ইউনিটের চার কর্মকর্তা—মোহাম্মদ হেম্মাতি, ভালিওল্লাহ সাফারি, হোসেইন রামেজানি এবং আলী খোশোইকে ঘেরাও করার পর তাদের হত্যা করে বিক্ষোভকারীরা।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, হোসেইনি বিচারিক কার্যক্রমে আলিখানি স্কয়ারের বিক্ষোভে উপস্থিত থাকা এবং একটি ধারালো অস্ত্র বহন করার কথা স্বীকার করেছেন। এছাড়াও শনাক্ত বা ট্র্যাক হওয়া এড়াতে তিনি একটি জ্যাকেট, টুপি ও মাস্ক পরেছিলেন এবং তার মোবাইল ফোন বন্ধ করে রেখেছিলেন।

আদালত তাকে অস্ত্র উঁচিয়ে আতঙ্ক তৈরি, ব্যাপক নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি এবং জনশৃঙ্খলা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করে দেশের নিরাপত্তাসহ সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে। একই রাতে ইসফাহানের মালেকশহর এলাকার আমির আল-মোমেনিন মসজিদ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় অংশ নেওয়ার জন্যও হোসেইনিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে আলী-খানি স্কয়ার মামলায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে গায়েম হোসেনির ফাঁসি কার্যকরের মাধ্যমে এই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে ৫ জনের সাজা কার্যকর হলো।

এরআগে গত ১৯ জুলাই গোলমোহাম্মদ মোহাম্মদী ও এরফান এসফানদিয়ারি নামে দুই জনের ফাঁসি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এরমধ্যে গোলমোহাম্মদ মোহাম্মদীও একজন আফগান নাগরিক এবং হোসেনির খালাতো ভাই ছিলেন।

এছাড়াও গত ২৮ জুলাই বিক্ষোভের স্থান আলি-খানি স্কোয়ারে একটি ফাঁসির মঞ্চ তৈরি করে জনসম্মক্ষে আমিরহোসেইন সাফারি ও আবুলফজল সেপাহি নামে আরও দুইজনকে ফাঁসি দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়ার যে ধারাবাহিক ঘটনা ঘটছে, এটি তার মধ্যে ৩০তম। 

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ-এর তথ্য অনুযায়ী, এই বিক্ষোভ চলাকালীন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সংঘাতে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। এছাড়াও ২২ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। 

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এই বিচার প্রক্রিয়ায় আসামির আইনি অধিকার রক্ষা করা হয়নি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর মতে, চীনের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দেশ ইরান। দেশটিতে হত্যা, ধর্ষণ ও গুপ্তচরবৃত্তির মতো অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। সাধারণত ভোরবেলায় ফাঁসিতে ঝুলিয়ে অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল, ফ্রান্স২৪

এমএইচআর