Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

মালয়েশিয়ায় দেহব্যবসা সিন্ডিকেটের বাংলাদেশি মাস্টারমাইন্ডসহ আটক ২৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে একটি দেহব্যবসা সিন্ডিকেটের মূল হোতা বাংলাদেশি নাগরিকসহ ২৩ জনকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। 

গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে কুয়ালালামপুরের জালান কুচাই লামা এবং জালান গেলুগোর এলাকার দুটি ভিন্ন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান এক বিবৃতিতে জানান, জনসাধারণের দেওয়া গোপন তথ্য এবং সিন্ডিকেটটি সম্পর্কে দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের পর মঙ্গলবার রাত ১০টা ৫০ মিনিটে এই অভিযানটি চালানো হয়। ধারণা করা হচ্ছে, সিন্ডিকেটটি গত দুই মাস ধরে সক্রিয় ছিল। 

তিরি আরও বলেন, এই চক্রের অন্যতম প্রধান হোতা একজন বাংলাদেশি পুরুষ এবং তার স্ত্রী একজন থাই নারী। এছাড়াও স্থানীয় এক মালয়েশিয়ান নাগরিক তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করত। 

আটককৃতদের মধ্যে তিনজন মিয়ানমারের পুরুষ, তিনজন বাংলাদেশি নারী, ১৪ জন ইন্দোনেশীয় নারী, দুইজন ভিয়েতনামী নারী এবং একজন মিয়ানমারের নারী রয়েছেন, যাদের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। 

ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক জাকারিয়া আরও জানান, যাচাইয়ে দেখা গেছে যে আটককৃত কারো কাছেই বৈধ ভ্রমণ নথি বা পাস ছিল না।

তিনি বলেন, অভিযানে আটতকৃতদের কাছ থেকে কর্মকর্তারা চারটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, একটি থাই পাসপোর্ট, একটি ইন্দোনেশীয় পাসপোর্ট, মোবাইল ফোন, কনডম এবং নগদ ১ হাজার ২১৫ রিঙ্গিত জব্দ করেছেন, যা দেহব্যবসা থেকে অর্জিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক জানান, এই চক্রটি মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে তাদের অনৈতিক কার্যক্রমের বিজ্ঞাপন দিত। এর মাধ্যমে তারা আবাসিক চত্বরের ভেতরে থাকা গ্রাহকদের আকর্ষণ করত, যাদের একটি বড় অংশই হলো ক্ল্যাং ভ্যালিতে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসী।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আটককৃত ওই বিদেশি দম্পতি (বাংলাদেশি পুরুষ ও থাই নারী) সেখানে কর্মরত কর্মীদের পাসপোর্ট নিজেদের জিম্মায় রেখে দিত। নারী কর্মীদের পাসপোর্ট আটকে রেখে তাদের গতিবিধি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা হতো এবং তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এই অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হতো বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

আটককৃতদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তাদের ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।

সূত্র: মালয় মেইল, এনএসটি

এমএইচআর