আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম
উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের কাছে কমপক্ষে ৫৭টি শক্তিশালী পরমাণু বোমা রয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একসঙ্গে পরমাণু বোমার অধিকারী হওয়ায় কিমের সঙ্গে ‘মিলেমিশে থাকা জরুরি’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বুধবার হোয়াইট হাউসে নতুন একটি হেলিপ্যাড উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই দাবি করেন।
ট্রাম্প জানান, ‘তার (কিম জং উন) কাছে ৫৭টি শক্তিশালী পরমাণু বোমা আছে। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র সক্ষমতা তৈরি হতে দেওয়া উচিত হয়নি। আমি (প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদে) প্রেসিডেন্ট হলে এটা হতে দিতাম না। তবে যেহেতু এখন কিমের হাতে ৫৭টি পরমাণু বোমা রয়েছে, তাই তার সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘কিমের সঙ্গে আমার খুবই ভালো সম্পর্ক। আমি ইরানকে কখনও পরমাণু অস্ত্রের মালিক হতে দেবো না এবং আমি কিম জং উনকে খুব ভালোভাবে চিনি। আমি জানি তিনি ভালোই থাকবেন।’

যদিও উত্তর কোরিয়ার কাছে থাকা এই ৫৭টির পরমাণু বোমার বিষয়ে কোনো প্রমাণ দেননি ট্রাম্প।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার কাছে প্রায় ৬০টি পরমাণু ওয়ারহেড থাকতে পারে। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক জানিয়েছেন, দেশটির বেসরকারি গবেষণা সংস্থাগুলোর মতে এই সংখ্যা ৮০ থেকে ১২০টির মধ্যে, যদিও তিনি সতর্ক করে দেন যে এর সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন।।
এদিকে চলতি বছরের শেষ দিকে কিম জং উনের সঙ্গে আবার সাক্ষাৎ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। আগামী নভেম্বরে চীনের শেনঝেনে অনুষ্ঠেয় এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপিইসি) সম্মেলনের সময় এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, হ্যাঁ, (কিমের সঙ্গে বৈঠকের ব্যাপারে) আমি আগ্রহী।’
উল্লেখ্য, ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে (২০১৬-২০২০) কিম জং উনের সঙ্গে মোট তিনবার ঐতিহাসিক বৈঠক করেছিলেন। এর মধ্যে ২০১৮ সালের জুন মাসে সিঙ্গাপুরের সান্তোসা দ্বীপে দুই নেতার মধ্যে প্রথম ঐতিহাসিক শীর্ষ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। এটিই ছিল কোনো দায়িত্বরত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতার মধ্যে প্রথম বৈঠক।
পরে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভিয়েতনামের হ্যানয়ে দ্বিতীয়বারের মতো মুখোমুখি হন ট্রাম্প ও কিম। তবে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে দুই পক্ষের মতপার্থক্যের কারণে এই বৈঠকটি কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছিল।
সর্বশেষ ২০১৯ সালের জুন মাসে দুই কোরিয়ার মধ্যবর্তী বেসামরিক অঞ্চলে আকস্মিকভাবে তাদের তৃতীয় সাক্ষাৎ ঘটে। সে সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম কোনো দায়িত্বরত মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে উত্তর কোরিয়ার ভূখণ্ডে পা রেখে ইতিহাস গড়েন।
সূত্র: রয়টার্স
এমএইচআর