আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম
ভারতের কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে আবু জাফর নামে এক মুসলিম যুবককে।
নিউ মার্কেটে মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল ‘শিখা ইন’ তার নামেই লিজ নেওয়া হয়েছিল। বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতেই তাকে আটক করা হয়েছিল। ওই হোটেলের মালিক বীরেশ্বর মিত্রের এখনও কোনও সন্ধান মেলেনি।
আবু জাফর জোড়াসাঁকোর বাসিন্দা। গত রাতে এন্টালি মার্কেট এলাকা থেকে তাকে আটক করে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ। জিজ্ঞাসাবাদের পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পাশাপাশি আরও দু’জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের নাম-পরিচয় এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তবে আটক হওয়া দু’জনের মধ্যে হোটেল ‘যাপন’-এর কর্মীও রয়েছেন।
মির্জা গালিব স্ট্রিটের যে হোটেলে আগুন লেগেছিল, তার কাছেই রয়েছে এই হোটেলটি। এই হোটেলটিও বীরেশ্বরেরই।
অন্য দিকে অগ্নিকাণ্ডের পরে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ৯টি হোটেল এবং ৪টি রেস্তরাঁকে সুরক্ষাবিধি না-মানার অভিযোগে শোকজ করেছে দমকল দফতর। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
মির্জা গালিব স্ট্রিটের পাঁচতলা একটি ভবনে একাধিক হোটেল ও অতিথিনিবাস ছিল। প্রতিটিতে ঘুপচি ঘুপচি ঘর। ওই ভবনেরই তিনতলায় ১১০০ বর্গফুট জায়গা জুড়ে চলছিল হোটেল ‘শিখা ইন’। বিস্তর গলদ এবং অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে এই হোটেল ঘিরে।
দু’কামরা ফ্ল্যাটের সমান জায়গায় ছিল খুপরি পাঁচটা ঘর। মঙ্গলবার মধ্যরাতের দিকে ওই হোটেলে আগুন ধরে যায়। অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন নয়জন। তাদের মধ্যে অন্তত পাঁচ জন বাংলাদেশি।
দমকলের সদর দফতর থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিস্তর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নিউ মার্কেটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বুধবারই বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করে লালবাজার।
কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ওই সিট বুধবার তরাতেই পাকড়াও করে ‘শিখা ইন’-এর লিজ হোল্ডার আবু জাফরকে।
‘শিখা ইন’-সহ ওই ভবনে যে হোটেলগুলি চলত, সেগুলি সুরক্ষাবিধি না মেনেই গজিয়ে উঠেছিল বলে অভিযোগ। আবাসিক ভবনকে বেআইনি ভাবে বাণিজ্যিক ভবনে পরিণত করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।
পূর্বতন সরকার এবং পৌরসভার তৎকালীন কর্তৃপক্ষ কী করছিলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও পূর্বতন সরকারের ‘অবহেলাকেই’ দায়ী করেছেন এই অগ্নিকাণ্ডের জন্য।
তার অভিযোগ, আগের সরকার ইচ্ছাকৃত ভাবে এই বিষয়গুলি থেকে নজর ঘুরিয়ে রেখেছিল।
-এমএমএস