আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম
পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে দীর্ঘ ৯ মাস পর সাক্ষাৎ করছেন তার স্ত্রী ও এক বোন। দেশটির সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার পর গতকাল মঙ্গলবার রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে এই বিশেষ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, ইমরান খানের বোন নওরীন নিয়াজি কারাগারের কনফারেন্স রুমে তার সাথে দেখা করেন। আদালতের কঠোর নির্দেশনার কারণে এই বৈঠকটি মাত্র ১৫ মিনিট স্থায়ী ছিল। বৈঠকে ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয় এবং সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের আদেশের বিষয়টি অবহিত করা হয়।
বোনের সাথে বৈঠকের পর ইমরান খান পৃথকভাবে তার স্ত্রী বুশরা বিবির সাথে দেখা করার সুযোগ পান। একই কারাগারে বন্দী বুশরা বিবির সাথে তার এই একান্ত বৈঠকটি প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট স্থায়ী হয়।
বুশরা বিবিও দীর্ঘ দিন পর তার আগের সংসারের দুই সন্তান মুসা ও মুবাশশারা মানেকা এবংভাবি মেহরুন্নিসার সঙ্গে প্রায় ৪০ মিনিট সময় কাটান।
এদিকে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই পারিবারিক সাক্ষাৎকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা প্রচারণার মাঠে ব্যবহার করা যাবে না। শর্ত ভঙ্গ করলে এই সুবিধা বাতিল হতে পারে। সে কারণে পিটিআই-এর কোনো রাজনৈতিক নেতা কিংবা ইমরানের অন্যান্য বোনদের ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, ৭২ বছর বয়সী এই জনপ্রিয় সাবেক ক্রিক্রেটার ও পিটিআই-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে একাধিক মামলায় আদিয়ালা কারাগারে বন্দী রয়েছেন এবং বর্তমানে আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৪ বছরের সাজা ভোগ করছেন। সম্প্রতি তার স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার দেশটির সুপ্রিম কোর্ট তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইসলামাবাদের শিফা আন্তর্জাতিক হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়, যেখানে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তার চিকিৎসা চলার কথা রয়েছে।
তবে ইমরান খানকে বহুমাত্রিক মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের সুপ্রিম কোর্টের আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন দাখিল করেছে শেহবাজ শরীফের নেতৃত্বাধীন ফেডারেল সরকার।
বুধবার ইসলামাবাদের প্রধান কমিশনারের মাধ্যমে সরকারের পুনর্বিবেচনার আবেদনটি দাখিল করা হয়।
এরআগে সোমবার সুপ্রিম কোর্টে একটি প্রতিবেদন জমা দেয় আদালতের নির্দেশে ইমরান খানের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড। ওই প্রতিবেদনে ইমরান খানের রক্তচাপ ও উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণে সহায়তার জন্য তার নিকটাত্মীয় ও স্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের সুপারিশ করা হয় এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রক্তচাপ নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। পরে সর্বোচ্চ আদালত শর্তসাপেক্ষে সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।
সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, ডন
এমএইচআর