আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪২ পিএম
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে কোনো আলোচনা চলছে না এবং অদূর ভবিষ্যতে আলোচনার জন্য কোনো সময়সূচিও নির্ধারিত নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সাথে কোনো সংলাপ বা আলোচনা চলছে না বা কোনো সময়সূচিও নির্ধারিত নেই।’
হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রয়েছে এবং সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলছে দাবি করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘প্রণালি থেকে সমস্ত মাইন হয় অপসারণ করা হয়েছে, না হয় নিষ্ক্রিয় ও ধ্বংস করা হয়েছে, তবে ইরানের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ পূর্ণাঙ্গভাবে বহাল ও কার্যকর রয়েছে।’
এদিকে ইরানের শীর্ষ আলোচক ও দেশটির পালামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলেছেন, গত জুনে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির শর্তগুলো যুক্তরাষ্ট্র পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, এই শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেহরানের জব্দকৃত সম্পদ ছেড়ে দেওয়া এবং সব ফ্রন্টে (লেবাননসহ) হুমকি ও সামরিক অভিযান বন্ধ করা।
প্রসঙ্গত, এর আগে বেশ কয়েকবার ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে দাবি করলেও তেহরান বরাবরই তা অস্বীকার করে আসছিল। তবে এবার ট্রাম্প নিজেই আলোচনা না চলার বিষয়টি নিশ্চিত করলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সামনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় ট্রাম্প হয়তো এখনই ইরানে সরাসরি স্থল আক্রমণ চালাবেন না। তবে দুই পক্ষই অনড় অবস্থানে থাকায় যেকোনো মুহূর্তে ভুল বোঝাবুঝি থেকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের সূত্রপাত ঘটতে পারে।
ব্লুমবার্গের ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষক মাইকেল অ্যালেন বলেন, আলোচনার পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওয়াশিংটন এখন নৌ অবরোধের পাশাপাশি সীমিত সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে এর মাধ্যমে ইরানকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন।
সূত্র: রয়টার্স
এমএইচআর