আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
সৌদি আরবে পবিত্র হজ ও ওমরাহ পালনের নামে পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিক্ষাবৃত্তির ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সৌদি প্রশাসন কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পাকিস্তানকে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এরই পরিপ্রক্ষিতে রিয়াদে অবস্থিত পাকিস্তানি দূতাবাস তাদের নাগরিকদের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা ও সতর্কতা জারি করেছে।
সোমবার এক বিবৃতিতে দূতাবাস স্পষ্ট জানিয়েছে, ‘মক্কা ও মদিনাসহ সৌদির কোথাও কোনো ধরনের ভিক্ষাবৃত্তি বা অননুমোদিত অর্থ সংগ্রহ বরদাশত করা হবে না। এই নির্দেশনা অমান্য করলে কঠোর আইনি সাজা, কারাদণ্ড এবং স্থায়ী বহিষ্কারের মুখোমুখি হতে হবে।’
একই সঙ্গে নাগরিকদের সচেতন করতে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি একটি বিশেষ সচেতনতামূলক ভিডিও প্রকাশ করেছে দূতাবাস।
پاکستان سے انے والے تمام عمرہ زائرین اور ورکرز کے نام اہم پیغام pic.twitter.com/BzOScR3lFP
— Pakistan Embassy Saudi Arabia (@PakinSaudiArab) August 16, 2026
ভিডিওটিতে দেখা যায়, ভিক্ষাবৃত্তির সময় হাতেনাতে ধরা পড়া এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে কারাগারে নিয়ে যাচ্ছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পাকিস্তানি নাগরিকদের এই ভিক্ষাবৃত্তির পেছনে রয়েছে একটি সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্র বা ‘ভিক্ষুক মাফিয়া’। এই চক্রটি পাকিস্তানের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক মানুষদের টার্গেট করে। তাদের ওমরাহ বা হজের প্রলোভন দেখিয়ে এবং জাল নথিপত্রের মাধ্যমে সৌদি আরবে যাওয়ার সব ব্যবস্থা করে দেয়। বিনিময়ে সৌদিতে গিয়ে তারা যে অর্থ ভিক্ষা করে, তার সিংহভাগই এই মাফিয়া চক্রের পকেটে চলে যায়।
সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সৌদি আরবে গ্রেফতার হওয়া পকেটমার ও ভিক্ষুকদের একটি বিশাল অংশই পাকিস্তানি নাগরিক। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে ক্ষুব্ধ সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় পাকিস্তানের সরকারকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, যদি এই সংঘবদ্ধ ভিক্ষাবৃত্তি অনতিবিলম্বে বন্ধ করা না হয়, তবে সাধারণ ও সৎ পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য ওমরাহ এবং হজের ভিসা প্রাপ্তি অত্যন্ত কঠিন ও সীমিত করে দেওয়া হবে।
এই কূটনৈতিক চাপ এবং জাতীয় মর্যাদা রক্ষার তাগিদে পাকিস্তান সরকারও নড়েচড়ে বসেছে। দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা—এফআইএ বিমানবন্দরগুলোতে নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ইতোমধ্যেই সন্দেহভাজন কয়েক হাজার ভিক্ষুক এবং মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করে তাদের নাম বিশেষ ‘নো-ফ্লাই’ বা কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে তারা কোনোভাবেই দেশ ছাড়তে না পারে।
এছাড়াও এখন থেকে পাকিস্তান থেকে ওমরাহ বা হজে যাওয়ার আগে প্রত্যেক যাত্রীকে বিশেষ আইনি মুচলেকা দিতে হচ্ছে যে, তারা সেখানে গিয়ে কোনো অপরাধ বা ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়াবেন না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তান যদি দ্রুত এই ভিক্ষুক মাফিয়া চক্রের মূলোৎপাটন করতে না পারে, তবে ভবিষ্যতে তাদের সাধারণ ধর্মপ্রাণ নাগরিকদের হজ বা ওমরাহ পালনে ধর্মীয় অধিকার মারাত্মকভাবে খর্ব হতে পারে, যা দেশটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সূত্র: এনডিটিভি, আরব নিউজ
এমএইচআর