Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

ছয় মাসে ৪৫৯৬ ভারতীয় নাগরিককে ফেরত পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম

উত্তর আমেরিকার দেশগুলোতে অবৈধ অভিবাসী এবং ভিসা নীতি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে চলমান কঠোর অভিযানের বিপাকে পড়েছেন ভারতীয় নাগরিকরা। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে রেকর্ড সংখ্যক ৪ হাজার ৫৯৬ জন ভারতীয় নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা নজিরবিহীন। 

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দুই দেশের সীমান্ত রক্ষা ও অভিবাসন বিভাগের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে রেকর্ড ৩ হাজার ৩২৩ জন ভারতীয় নাগরিককে কানাডা থেকে বিতারিত করা হয়েছে। এই সংখ্যাটি গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের পুরো বছরে বহিষ্কৃত সংখ্যার প্রায় ৮৮ শতাংশ। গত বছর ৩ হাজার ৭৭৯ জন ভারতীয়কে ফেরত পঠিয়েছিল অটোয়া। 

সিবিএসএ জানিয়েছে, সাধারণত স্টুডেন্ট ভিসা বা ভিজিটর ভিসার অপব্যবহার, অবৈধভাবে থেকে যাওয়া এবং রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন বাতিল হওয়ার কারণে তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই অভিযোগে বর্তমানে তাদের ‘রিমুভাল ইন প্রগ্রেস’ বা বহিষ্কারের চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় থাকা তালিকায় আরও ৭ হাজার ৬৬৯ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন, যা যেকোনো দেশের নাগরিকদের মধ্যে সর্বোচ্চ।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নতুন কঠোর ইমিগ্রেশন আইনের অধীনে ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে ১ হাজার ২৭৩ জন ভারতীয়কে ডিক্লেয়ারেশন বা বিশেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। 

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৫ সাল থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ অভিযানে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৮৪০ জনেরও বেশি ভারতীয় নাগরিক যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন, যা ১৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। 

মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন জানিয়েছেন, চলতি আগস্টের প্রথম সপ্তাহে গড়ে ৪ হাজার ২০০ জন ভারতীয়কে গ্রেফতার করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। ফলে চলতি বছরের বাকি সময়ে আরও অনেক ভারতীয়কে গ্রেফতার ও ফেরত পাঠানো হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

এদিকে ট্রাম্পের অবৈধ অভিবাসী ফেরত পাঠানোর বিষয়ে 'জিরো টলারেন্স' নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ‘স্টপ এএপিআই হেট’ নামে একটি এনজিও-র তথ্য অনুযায়ী, অভিবাসী বিরোধী অভিযানে আটক ও ফেরত পাঠানো এশীয়দের মধ্যে ভারতীয়রা শীর্ষে রয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ১৪ হাজার ৪০২ জন এশীয়র মধ্যে প্রায় ২৮ শতাংশ ছিলেন ভারতীয় নাগরিক।

একই সময়ে ৬ হাজার ২১৮ জন এশীয়কে নির্বাসিত করা হয়; এক্ষেত্রেও ভারতীয়রা শীর্ষস্থানে ছিলেন। 

‘স্টপ এএপিআই হেট’ আরও জানিয়েছে, তাদের সর্বশেষ তথ্যের বিশ্লেষণে (যা তারা এখনও প্রকাশ করেনি) তারা দেখেছে যে, ‘আইসিই-র সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে ভারতীয়রা, এবং সমস্ত এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের অধিবাসীদের মধ্যে তাদেরই গ্রেফতার, আটক এবং নির্বাসনের সংখ্যা সর্বোচ্চ’।

প্রসঙ্গত, ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, তারা কোনো নির্দিষ্ট জাতীয়তাকে এককভাবে টার্গেট না করলেও, নথিপত্রহীন অভিবাসন বৃদ্ধি এবং সীমান্ত নীতি কঠোর হওয়ার কারণে ভারতীয়রা এর বড় প্রভাবে পড়েছেন।

মার্কিন সীমান্ত সংস্থা ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মেক্সিকো এবং কানাডা সীমান্ত দিয়ে নথিপত্রহীন ভারতীয়দের রেকর্ড পরিমাণ অনুপ্রবেশ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সামগ্রিক 'জিরো টলারেন্স' নীতিই এই ব্যাপক বহিষ্কারের মূল কারণ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রগুলো ভারতকে কেন্দ্র করে অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে মধ্য আমেরিকা বা ইউরোপ হয়ে 'ডাঙ্কি ফ্লাইটের' মাধ্যমে ভারতীয়দের মার্কিন সীমান্তে নিয়ে আসছে, যা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরে এসেছে।

সূত্র: এনডিটিভি


এমএইচআর