আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৭ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম
গাজায় প্রতি রাতে ৩০ থেকে ৪০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যার আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের কুখ্যাত ও উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির।
তিনি বলেছেন, শুধু তাৎক্ষণিকভাবে হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের নয়, আরও অনেক বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা উচিত। খবর আল-জাজিরার।
রোববার (১৬ আগস্ট) প্রকাশ্যে আসা একটি পডকাস্টে সাবেক ইসরায়েলি বন্দি রোম ব্রাসলাভস্কির সঙ্গে আলাপকালে বেন-গভির এসব মন্তব্য করেন। প্রকাশের পর মন্তব্যগুলো ফিলিস্তিনি গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
কুখ্যাত ইসরায়েলি মন্ত্রী বেন-গভির বলেন, গাজায় প্রতি রাতে ৩০ থেকে ৪০ জনকে হত্যা করার জন্য অভিযান চালানো উচিত। শুধু যারা ওই মুহূর্তে হুমকি তৈরি করছে, তাদের মধ্যেই অভিযান সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় তিনি আরও বলেন, গাজায় এমন মানুষ রয়েছে যারা তার ভাষায় ‘বেঁচে থাকার যোগ্য নয়’ এবং ‘তারা মানুষও নয়’।
গাজায় বর্তমান যুদ্ধবিরতির মধ্যে ইসরায়েলি সামরিক হামলা কমিয়ে আনার প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন বেন-গভির।
তিনি এর পরিবর্তে গাজায় আবারও হত্যাকাণ্ড চালানোর পক্ষে মত দেন। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ওপর সরাসরি হামলার নির্দেশ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা তার নেই।
তিনি দেশটির নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে যুদ্ধ ও নিরাপত্তা নীতিনির্ধারণে প্রভাব রাখেন এবং ইসরায়েলের পুলিশ ও কারা ব্যবস্থার দায়িত্বে রয়েছেন।
ইসরায়েলে সম্প্রতি কার্যকর হওয়া মৃত্যুদণ্ড আইন নিয়েও কথা বলেন বেন-গভির। সামরিক আদালতে ইসরায়েলিদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সুযোগ তৈরি হয়েছে ওই আইনে।
ব্রাসলাভস্কি তাকে অনুরোধ করেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সুযোগ হলে যেন তাকে নিজ হাতে তা কার্যকর করার সুযোগ দেওয়া হয়।
জবাবে বেন-গভির বলেন, সেই সুযোগ করে দিতে তিনি ‘দুনিয়া উল্টে দেবেন’ এবং এ বিষয়ে যা করার সবই করবেন।
বেন-গভির গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের স্থায়ীভাবে চলে যাওয়ার জন্য উৎসাহ দেওয়ার পক্ষেও মত দেন। একই সঙ্গে গাজায় নতুন ইসরাইলি বসতি স্থাপনের কথা বলেন তিনি।
আলোচনায় তিনি আবারও দাবি করেন, ‘পুরো গাজাই আমাদের’। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে আসছেন, ফিলিস্তিনিদের ব্যাপকভাবে, জোরপূর্বক বা পরিকল্পিতভাবে গাজা থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ জাতিগত নিধনের পর্যায়ে পড়তে পারে।

বেন-গভিরের সর্বশেষ মন্তব্যকে তার দীর্ঘদিনের উগ্র বক্তব্যের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কৈশোরে তিনি নিষিদ্ধ কাহানিস্ট জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
মন্ত্রী হওয়ার পরও ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য মৃত্যুদণ্ডকে সমর্থন করে আসছেন তিনি এবং ইসরায়েলি কারাগারে আটক ফিলিস্তিনিদের ওপর কঠোর নির্যাতন করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
তার বিভিন্ন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ তার ওপর নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে।
তবে এসব পদক্ষেপ তার রাজনৈতিক অবস্থানে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। গাজা যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলি সরকারের অভ্যন্তরেও মতপার্থক্য ক্রমশ প্রকাশ্য হচ্ছে।
বিশেষ করে উগ্র ডানপন্থী অংশ আরও কঠোর সামরিক অভিযান ও গাজায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছে। বেন-গভিরের সর্বশেষ মন্তব্য সেই চাপকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
-এমএমএস