আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৪ পিএম
ভারতের সরকারি স্কুলগুলোর জরাজীর্ণ অবকাঠামো এবং চরম অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে দেশজুড়ে ‘স্কুল ঠিক করো’ আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে দেশটির তরুণদের প্রতিবাদী ও রাজনৈতিক প্লাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টি (সিজিপি)।
শনিবার (১৫ আগস্ট) ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে মহারাষ্ট্রের হিংগোলি জেলার সন্তুক পিম্পরি গ্রামের একটি সরকারি স্কুল পরির্দশনে গিয়ে এই কর্মসূচির সূচনা করেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।
পরির্দশনের সময় স্কুলটির সুযোগ সুবিধা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। এসময় ছাত্র-ছাত্রীরা জানায়, স্কুলের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা খারাপ, পর্যাপ্ত সুপেয় পানি নেই, বেঞ্চ নেই এবং টয়লেটের পরিবেশ ব্যবহার করার মতো না। দীপকে নিজেও টয়লেটের অবস্থা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে টয়লেটের ভিডিও প্রকাশ করে বলেছেন, ‘কোনো বাচ্চা এটি ব্যবহার করবে কীভাবে।’ শিক্ষার্থীরা কি শৌচাগার ব্যবহারের জন্য বাড়িতে ফিরে যাবে এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।
How is any kid supposed to use this toilet? #SchoolThikKaro pic.twitter.com/WNkDAFn5sn
— Abhijeet Dipke (@abhijeet_dipke) August 15, 2026
তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার ৮০ বছর পরও যদি একটি স্কুলে পানির ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে দেশের অগ্রগতি কীভাবে সম্ভব?’
ককরোচ পার্টির এই নেতা আরও অভিযোগ করেন, গত ১০ বছরে ভারতে প্রায় ৯৪ হাজারেরও বেশি সরকারি স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং কর্পোরেটদের সুবিধা দিতে শিক্ষা খাতের বাজেট কমানো হয়েছে।
তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘দেশে যদি কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন সংসদ ভবন বা প্রধানমন্ত্রীর বিলাসবহুল বাসস্থান (পিএম হাউস) তৈরি হতে পারে, তবে গ্রামের দরিদ্র কৃষক-শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য ভালো স্কুল কেন তৈরি হবে না?’
এদিকে ‘স্কুল ঠিক করো’ আন্দোলনের মূল দাবি ও লক্ষ্যও তুলে ধরেন দীপকে। এরমধ্যে রয়েছে— গ্রামীণ অঞ্চলের সরকারি স্কুলগুলোর ভাঙাচোরা ভবন সংস্কার এবং বিদ্যুৎ ও সুপেয় পানির মতো মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করা, ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য, বিশেষ করে ছাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত ও সচল শৌচাগারের ব্যবস্থা করা এবং বেসরকারি স্কুলগুলোর অতিরিক্ত ও লাগামহীন ফি-র একটি সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় পঞ্চায়েত ও জনপ্রতিনিধিদের (সরপঞ্চ) সঙ্গে নিয়ে আগামী দুই মাসের মধ্যে অন্তত ১০০টি অবহেলিত স্কুলের সমস্যা সমাধান করে সেগুলোকে মডেল হিসেবে দাঁড় করানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যেই সরকারি স্কুলগুলোর বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে সিজিপি একটি বিশেষ তথ্য সংগ্রহের ফরম তৈরি করেছে উল্লেখ করে দীপকে দীপকে অভিভাবকদের অনুরোধ করেছেন, তারা যেন সন্তানদের স্কুলে গিয়ে সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি দেখলে তা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
প্রসঙ্গত, অনলাইনভিত্তিক একটি ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করা সিজিপি গত মাসে ভারতে বিভিন্ন পরীক্ষা দুর্নীতির বিরুদ্ধে দিল্লিতে টানা ৩৬ দিন আন্দোলন করে দেশটির রাজনৈতিক মহলে তুমুল সাড়া ফেলে। এবার তারা গ্রামীণ শিক্ষার মানোন্নয়নকে মূল লক্ষ্য করে মাঠে নেমেছে, ফলে এ খাতেও এবার বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, ইন্ডিয়া টুডে
এমএইচআর