Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ‘অগ্নিবীর’ হিসেবে নিয়োগ পেতে নেপালে বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম

ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘অগ্নিপথ’ প্রকল্পের অধীনে ‘অগ্নিবীর’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে বিক্ষোভ করেছে নেপালি তরুণরা। 

শুক্রবার নেপালের পোখারা শহরে ‘ইন্ডিয়ান এক্স-সার্ভিসম্যান গোর্খা ব্রিগেড নেপাল’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই আন্দোলনে ভারতীয় সেনাবাহিনীর গোর্খা রেজিমেন্টে কর্মরত সাবেক গোর্খা সেনা কর্মকর্তা, তাদের পরিবার এবং চাকরিপ্রত্যাশী শত শত নেপালি তরুণ অংশ নেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, আগামী ১৬ আগস্ট ভারতীয় সেনাবাহিনীর চিফ অব আর্মি স্টাফ জেনারেল ধিরাজ সেথের নির্ধারিত নেপাল সফরের ঠিক আগে এই আন্দোলন নতুন করে গতি পেয়েছে। 

মূলত, নেপালের নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ও ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে গোর্খা রেজিমেন্ট নামে একটি পৃথক রেজিমেন্ট রয়েছে। ভারত ব্রিটিশ ঔপনিবেশি শাসনের অধীনে থাকাকালে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান আর্মিতে গঠিত হয়েছিল এই রেজিমেন্ট। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীনতা লাভের পরও যুক্তরাজ্য, ভারত নিজেদের সেনাবাহিনীতে গোর্খা রেজিমেন্ট বিলুপ্ত না করার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৪৭ সালে ব্রিটেন, ভারত ও নেপালের মধ্যে এ ইস্যুতে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী ভারত ও যুক্তরাজ্যের সেনাবাহিনীতে নেপালি নাগরিকদের গোর্খা রেজিমেন্টে নিয়োগ ও সেবা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৭টি গোর্খা রেজিমেন্টের ৩৯টি ব্যাটালিয়নে প্রায় ৩২ হাজার এবং ব্রিটেনের গোর্খা রেজিমেন্ট কর্মরত আছেন ৪ হাজার ৯০ জন নেপালি গোর্খা সেনা কর্মরত রয়েছেন।

তবে ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীর গোর্খা রেজিমেন্টে নেপালি নাগরিকদের নিয়োগ সাময়িক স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালে ভারত সরকার ‘অগ্নিপথ’ প্রকল্প চালু করলে নেপাল সরকার এতে আপত্তি জানায়।  

নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের সরকারের দাবি, অগ্নিবীর প্রকল্প ১৯৪৭ সালে নেপাল, ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপাক্ষিক চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। চুক্তির বাইরে গিয়ে নতুন কোনো পদ্ধতিতে নাগরিকদের বিদেশি সেনাবাহিনীতে নিয়োগের আগে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও রাজনৈতিক ঐকমত্যের প্রয়োজন

প্রসঙ্গত, ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে ২০২২ সালে ‘অগ্নিপথ’ প্রকল্প চালু করা হয়। এর আওতায় ‘অগ্নিবীর’ হিসেবে নিয়োগ পাওয়া তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণসহ চার বছর কাজ করতে হয়। চার বছর শেষে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশকে স্থায়ীভাবে সেনাবাহিনীতে রাখার বিধান রয়েছে। বাকিদের ‘সেবা নিধি’ প্যাকেজের আওতায় এককালীন অর্থ দিয়ে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

নেপালি আন্দোলনকারীদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের তীব্র গরম ও ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ন্যূনতম মজুরিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করার চেয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ‘অগ্নিবীর’ হিসেবে চার বছর সেবা করা শত গুণ শ্রেয়। 

সাবেক সেনাকর্মকর্তাদের দাবি, চার বছরের এই চাকরি থেকে একজন নেপালি তরুণ প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ নেপালি রুপি আয় করতে পারবেন, যা তাদের পরিবার ও দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় অবদান হতে পারে। 

এই দাবি নিয়ে আন্দোলনকারীরা শুক্রবার পোখারা স্টেডিয়াম থেকে শুরু করে কাস্কি জেলা প্রশাসন কার্যালয় পর্যন্ত একটি পদযাত্রা করেন এবং নেপালের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে একটি দুই দফা স্মারকলিপি জমা দেন।

তাদের অন্য দাবিটি ছিল—যেসব সাবেক সেনা কল্যাণ সংস্থা তাদের নামে ‘সৈনিক’ শব্দ ব্যবহার করে, সেগুলোর নিবন্ধন নবায়নে নেপাল সরকারের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা।

সূত্র: এনডিটিভি, ফাস্ট পোস্ট

এমএইচআর