আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম
আকাশসীমার নিরাপত্তা জোরদারে পুরোনো বিমান বহর বদলে ফেলতে এক বিশাল সামরিক আধুনিকায়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ভারত। দেশটির বিমানবাহিনীর (আইএএফ) জন্য মোট ২১০টি নতুন বিমান কেনার চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে, যার মধ্যে রয়েছে ৬০টি অত্যাধুনিক মাল্টি-রোল পরিবহন বিমান এবং ১৫০টি নতুন প্রজন্মের উন্নত প্রশিক্ষণ বিমান।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এসব বিমান ক্রয়ের উদ্দেশ্যে যে দুটি পৃথক ‘তথ্য অনুরোধপত্র’ (আরএফআই) জারি করেছে, যেখানে নিজস্ব প্রযুক্তি ও উৎপাদন ব্যবস্থা তথা ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ নীতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ফলে এই চুক্তিটি পাওয়ার প্রতিযোগিতায় টাটা গ্রুপ, মাহিন্দ্রা গ্রুপ এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (এইচএএল) এগিয়ে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা সূত্র অনুমান করছে, এই প্রকল্পের মূল্য হতে যাচ্ছে প্রায় ১ লাখ কোটি রুপি (আনুমানিক ১২ বিলিয়ন ডলার), যা ভারতের সাম্প্রতিক সামরিক ইতিহাসের অন্যতম বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি হতে যাচ্ছে।
এই কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় বিমানবাহিনী তাদের সোভিয়েত আমলের পুরোনো বিমানগুলো পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছিল। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং দুই সীমান্তে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিমান বহরের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন
এরই অংশ হিসেবে রাশিয়ার তৈরি পুরোনো অ্যানাটোনভ এএন-৩২ এবং ইল্যুশিন ইল-৭৬ কার্গো বিমানগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে আসায় এই নতুন ৬০টি পরিবহন বিমান কেনা হচ্ছে।
কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পরিবহন বিমানগুলোর জন্য বৈশ্বিক ও দেশীয় সংস্থাগুলোর কাছে যেসব বৈশিষ্ট্য চেয়েছে তারমধ্যে রয়েছে— বিমানগুলো যেন ১৮ থেকে ৩০ টন পর্যন্ত সামরিক সরঞ্জাম ও রসদ বহনের ক্ষমতা এবং হিমালয়ের মতো উচ্চ ও দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের ছোট বা সংক্ষিপ্ত রানওয়েতে হালকা ট্যাংক, ভারী কামান এবং সেনা সদস্যদের নিয়ে যেন সহজে ওঠানামা করতে পারে।
অন্যদিকে নতুন প্রযুক্তির ফাইটার জেট (যেমন রাফাল বা তেজস) ওড়ানোর জন্য ক্যাডেটদের বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ দিতে ১৫০টি নতুন ও আধুনিক ট্রেইনার বিমানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এগুলো বর্তমানের পুরানো ও মেয়াদোত্তীর্ণ ‘হক’ ট্রেইনার বহরকে প্রতিস্থাপন করবে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তিটি সম্পন্ন হলে ভারতীয় বিমানবাহিনীর লজিস্টিক ও অপারেশনাল সক্ষমতা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে, যা দক্ষিণ এশিয়ার আকাশসীমার ভারসাম্য বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সূত্র: এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া
এমএইচআর