Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

দক্ষিণ কোরিয়ায় নজিরবিহীন তাপপ্রবাহ, মাটির নিচেই ‘সেদ্ধ’ হয়ে যাচ্ছে আলু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম

আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ শুরু হওয়ার পর গত ১২২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দাবদাহের মুখোমুখি দক্ষিণ কোরিয়া। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, মাটির নিচে থাকা কাঁচা আলু ক্ষেতেই গলে নরম হয়ে একেবারে ‘সেদ্ধ’ আলুর মতো হয়ে গেছে। ১৯০৪ সালের পর দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার এই রেকর্ড কেবল ফসলেরই ক্ষতি করেনি, কেড়ে নিয়েছে বহু মানুষের প্রাণ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ জরুরি অবস্থা।

দক্ষিণ কোরিয়ার আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ আগস্ট দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইয়াংসানে তাপমাত্রা ৪২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা ১৯০৪ সালের পর দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

দেশটির রাজধানী সিউল থেকে ১৩০ কিলোমিটার উত্তরপূর্বাঞ্চলের গ্যাংওন প্রদেশের ইয়াঙ্গু কাউন্টির কৃষকরা জানিয়েছেন, এক সপ্তাহ আগেও যেসব আলুক্ষেত সুস্থ ছিল, তা তীব্র গরমে নষ্ট হয়ে গেছে। মাটির নিচে থাকা আলুগুলো এতটাই নরম ও ভেঙে যাচ্ছে যে সেগুলো দেখতে হুবহু সেদ্ধ বা চটকানো আলুর মতো মনে হচ্ছে। আলুর পাশাপাশি বাঁধাকপির ক্ষেতও পুড়ে কালো হয়ে গেছে।

image

লি সাং-হায়ুক নামে এক কৃষক জানান, তিনি তার আলু খেতের মাটি খুঁড়ে বিক্রির মতো কিছুই পাচ্ছেন না।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এসবিএসকে এ কৃষক বলেছেন, ‘এটি শুধুমাত্র একটি বা দুটি খেতে নয়। আমি কীভাবে ভাষায় প্রকাশ করব! আমার জন্য এটি অত্যন্ত হতাশাজনক।’

প্রসঙ্গত, সামনেই দক্ষিণ কোরিয়ার ঐতিহ্যবাহী প্রধান শরৎকালীন উৎসব ‘চুসক’। এই উৎসবের আগে ফসল এভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দেশটিতে খাদ্যপণ্যের দাম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

image

অন্যদিকে দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার মতে, এই তাপপ্রবাহের কারণে দেশব্যাপী অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৯ লাখেরও বেশি গবাদি পশু ও বিভিন্ন খামারের ১৪ লাখ চাষের মাছ মারা গেছে।

এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রশাসন নাগরিকদের জন্য হিট ওয়ার্নিং বা তাপ সতর্কতা জারি করেছে এবং সব ধরনের আউটডোর বা বাইরের কাজকর্ম অবিলম্বে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি লি জে-মিয়ুং এই পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, ‘দেশবাসী এমন বৈরী আবহাওয়া আগে কখনো দেখেনি’।  

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশে উত্তর কোরিয়া, জাপান, চীন ও হংকংয়েও তীব্র তাপদাহের কারণে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কয়েকটি অঞ্চলে তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস স্পর্শ করেছে।

জাপানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হাইওগো প্রিফেকচারের তাম্বা শহরে তাপমাত্রা ৪১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসের অন্যতম সর্বোচ্চ। তীব্র তাপদাহ ও হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে দেশটিতে ইতিমধ্যেই বহু মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এছাড়াও পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিম চীনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্রচণ্ড খরায় পুড়ছে। দেশটির ঝেজিয়াং, জিয়াংসু এবং সাংহাইয়ের মতো শিল্পপ্রধান এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৪৩.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে, যার ফলে সেখানে সর্বোচ্চ ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মতে, মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণেই এশিয়াজুড়ে এই তীব্র তাপমাত্রা দেখা দিচ্ছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স

এমএইচআর