আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১২ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৩ এএম
দুই দিন আগে ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে কলম্বিয়া। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি এখন পর্যন্ত প্রাণ গেছে দুই শতাধিক মানুষের। আহত হয়েছেন বহু মানুষ। ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকা পড়েছেন অনেকে। কলম্বিয়ার জন্য ভূমিকম্প কোনো বিরল ঘটনা নয়। দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮০টি ভূমিকম্প যন্ত্রে ধরা পড়ে, যার অধিকাংশই মানুষ অনুভব করতে পারেন না।
কলম্বিয়াসহ লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে কেন ঘন ঘন ভূমিকম্প হয়, এর পেছনে মূল কারণ হলো ওই অঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থান এবং একাধিক টেকটনিক প্লেটের সক্রিয় গতিবিধি। নাজকা, দক্ষিণ আমেরিকান ও ক্যারিবিয়ান প্লেটের পারস্পরিক সংঘর্ষ ও সঞ্চালনের কারণে কলম্বিয়া বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।
কলম্বিয়ার জিওলজিক্যাল সার্ভিস (এসজিসি) জানিয়েছে, দেশটিতে দিনে প্রায় ৮০টি ভূমিকম্প যন্ত্রে ধরা পড়ে। মাসে এই সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় আড়াই হাজারে। এর অধিকাংশই মানুষ অনুভব করতে পারেন না। তবে শক্তিশালী কম্পন হলে এর প্রভাব ব্যাপক হতে পারে।
দক্ষিণ আমেরিকার আরও কয়েকটি দেশও ভূমিকম্পপ্রবণ। এর মধ্যে ভেনেজুয়েলা অন্যতম। দেশটি ক্যারিবিয়ান ও দক্ষিণ আমেরিকান টেকটনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছে অবস্থিত। চিলি, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়াসহ দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিমাঞ্চলের বড় একটি অংশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের মধ্যে পড়েছে।
টেকটনিক প্লেটের সংঘর্ষ
কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পের অন্যতম কারণ নাজকা, দক্ষিণ আমেরিকান ও ক্যারিবিয়ান প্লেটের পারস্পরিক গতিবিধি। পৃথিবীর ভূত্বক কয়েকটি বিশাল টেকটনিক প্লেটে বিভক্ত। এসব প্লেট সব সময়ই ধীরে ধীরে চলাচল করছে। কোথাও দুটি প্লেট পরস্পরের দিকে এগিয়ে আসে, কোথাও পাশাপাশি সরে যায়, আবার কোথাও একটি প্লেট অন্যটির নিচে ঢুকে যায়।
দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম প্রান্তে নাজকা প্লেট দক্ষিণ আমেরিকান প্লেটের নিচে ঢুকে যাচ্ছে। ভূবিজ্ঞানের ভাষায় এই প্রক্রিয়াকে সাবডাকশন বলা হয়। এই প্লেটের গতিবিধির ফলে ওই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ হয়ে আসছে। একই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে আন্দিজ পর্বতমালাও গড়ে উঠেছে।
চিলি ও পেরু থেকে শুরু করে ইকুয়েডর ও কলম্বিয়া হয়ে মধ্য আমেরিকা এবং মেক্সিকো পর্যন্ত প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলজুড়ে টেকটনিক প্লেটের সক্রিয়তা রয়েছে। ফলে এ অঞ্চলে ভূমিকম্পের ঝুঁকিও বেশি।
ভূমিকম্পের মাত্রা বেশি হলেই যে সব সময় ক্ষয়ক্ষতিও বেশি হবে, এমন নয়। একটি ভূমিকম্প কতটা ক্ষতি করবে, তা নির্ভর করে এর গভীরতা, উৎপত্তিস্থলের অবস্থান, জনবসতির ঘনত্ব এবং ভবনগুলোর নির্মাণমানের ওপর।
অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল দেশগুলোতে অনেক ভবন ভূমিকম্প সহনশীলভাবে নির্মিত হয় না। ফলে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পেও ভবন ধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। এ কারণেই একই মাত্রার ভূমিকম্প বিভিন্ন দেশে ভিন্ন মাত্রার বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।
প্রশান্ত মহাসাগর ঘিরে ভূমিকম্পের বলয়
লাতিন আমেরিকার ভূমিকম্পপ্রবণতার আরেকটি বড় কারণ হলো প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’। প্রশান্ত মহাসাগরকে ঘিরে থাকা এই বিশাল ভূমিকম্পপ্রবণ বলয়ের মধ্যে জাপান, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, পশ্চিম আমেরিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম উপকূলের বিস্তীর্ণ অঞ্চল রয়েছে।
বিশ্বের অধিকাংশ বড় ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ এই অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত। কারণ এখানে একাধিক টেকটনিক প্লেটের সংঘর্ষ, বিচ্যুতি ও সাবডাকশন সক্রিয় রয়েছে।
এমআর