আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম
ঐতিহাসিক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তম তিন দেশ- সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক। এই চুক্তির আওতায় এই তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আক্রমণ হলে তা তিন দেশের সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে, যা পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ‘আর্টিকেল-৫’ এর মতো একটি যৌথ প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার আল-সাফা প্রাসাদে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে এই চুক্তিটি স্বাক্ষর করেন।
এসময় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান (সিডিএফ) ও সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এবং সৌদি আরব ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এই চুক্তিটির মূল লক্ষ্য হলো যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলা। ফলে তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা বাকি সবকটি দেশের ওপর হামলা হিসেবেই গণ্য করা হবে। এছাড়া এই চুক্তি তিন দেশের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রতিটি ক্ষেত্রকে আরও জোরদার করার দিকনির্দেশনা দেবে।’
এদিকে তুরস্কের যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই চুক্তিটি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক। এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয় এবং ভবিষ্যতে অন্যান্য আঞ্চলিক দেশও এতে যোগ দিতে পারবে।
সূত্র জানিয়েছে, এই চুক্তির আওতায় তিন দেশের মধ্যে সব ধরনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে সামরিক বা নিরাপত্তা সহযোগিতার বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি চুক্তিতে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ইরান ও তাদের মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে এই কৌশলগত জোট গঠিত হলো। বিশেষ করে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া এবং নিরাপত্তা সংকট তিন দেশকে এক করতে ভূমিকা রেখেছে।
এই চুক্তির ফলে পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান, ন্যাটো সদস্য ও শক্তিশালী সামরিক শিল্পের অধিকারী তুরস্ক এবং তেলসমৃদ্ধ প্রভাবশালী সৌদি আরব সামরিক ও কৌশলগতভাবে এক কাতারে চলে এলো।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়া এবং ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতার মুখে এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তিটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও শক্তির ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডিফেন্স স্টাডিজ সেন্টারের মনসুর আহমেদ বলেছেন, ইসলামাবাদ ও আঙ্কারা শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প নিয়ে আলোচনায় বসতে পারে, অন্যদিকে রিয়াদ প্রযুক্তিগত ব্যয়ের মাধ্যমে অবদান রাখতে পারে।
সূত্র: ডন, আনাদোলু
এমএইচআর