আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:২১ এএম
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ আরও সীমিত করতে নতুন নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার স্বাক্ষরিত এই আদেশের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা সন্তানকে মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিদেশি দম্পতিদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্মদানের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড, জলসীমা বা আকাশসীমায় জন্ম নেওয়া শিশু সাধারণভাবে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্বের অধিকারী। ১৮৬৮ সালে গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে দাসপ্রথা বিলুপ্তির পর এই সংশোধনী কার্যকর হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল মুক্তিপ্রাপ্ত দাস ও তাদের সন্তানদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বহু দম্পতি শুধুমাত্র সন্তানকে মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করছেন। প্রশাসনের ভাষায়, এই প্রবণতাই ‘বার্থ ট্যুরিজম’। নতুন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এ ধরনের কার্যক্রম সীমিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের স্বরাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার বলেন, নতুন নীতির ফলে বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্য এবং নাগরিকত্ব লাভের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিতে আগ্রহী ব্যক্তিরাই সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবেন।
নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, জন্মগত নাগরিকত্বের বিধানকে দীর্ঘদিন ধরে অপব্যবহার করা হয়েছে। এই অপব্যবহার বন্ধ করা আমাদের দায়িত্ব।
অভিবাসনবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজ–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে অন্তত ২০ থেকে ২৫ হাজার বিদেশি দম্পতি সন্তান প্রসবের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পরও জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে সে সময় দুটি ফেডারেল আদালত তার পদক্ষেপে স্থগিতাদেশ দেন এবং এটিকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেন। পরে ট্রাম্প প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলেও গত ৩০ জুন আদালত সেই আপিল খারিজ করে দেয়।
এদিকে ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশ নিয়েও আইনি জটিলতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিবাসন ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। মার্কিন-স্প্যানিশ মানবাধিকার সংস্থা ইউনিডোস ইউএস–এর নির্বাহী ডেবোরাহ ফ্লেইসচাকার রয়টার্সকে বলেন, ১৫০ বছরের বেশি সময় ধরে প্রচলিত সাংবিধানিক এই নীতিতে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নতুন করে আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
/এএস