আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম
ভারতের পূর্ব সীমান্ত সংলগ্ন কৌশলগত অঞ্চলগুলোতে চীনের তৈরি ২৫০টি অত্যাধুনিক এসএইচ-১৫ ট্রাক-মাউন্টেড স্বয়ংক্রিয় হাউইটজার (কামান) মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের এই পদক্ষেপ ভারতের সীমান্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শীর্ষ গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে ইন্ডিয়া টুডেসহ ভারতের অন্যান্য সংবাদমাধ্যম এই তথ্য জানিয়েছে।
ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের মে মাসে ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর পর নিজেদের সামরিক ও আর্টিলারি সক্ষমতা বাড়াতে ভারতের সঙ্গে পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত প্রধান প্রধান সেক্টর জুড়ে ১৫৫ মিমি আর্টিলারি সিস্টেমগুলো স্থাপন করেছে ইসলামাবাদ।
চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিরক্ষা সংস্থা ‘নরিনকো’র নির্মিত এসএইচ-১৫ হাউইটজার হলো দেশটির নিজস্ব সামরিক বাহিনীতে ব্যবহৃত ‘পিসিএল-১৮১’-এর রফতানি সংস্করণ।
প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশক জেনেস-এর মতে, ১৫৫ মিলিমিটার (৫২-ক্যালিবার) সম্পন্ন কামানের আধুনিক সিস্টেমটি একটি ৬×৬ সাঁজোয়া শানসি ট্রাক চ্যাসিসের ওপর বসানো। এতে ৪০০ হর্সপাওয়ারের ডিজেল ইঞ্জিন রয়েছে এবং এটি রাস্তায় সর্বোচ্চ ৯০ কিমি. প্রতি ঘণ্টার গতিতে চলতে পারে।
ন্যাটো-অনুমোদিত সাধারণ গোলাবারুদ দিয়ে এটি ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার এবং রকেট-অ্যাসিস্টেড প্রজেক্টাইল (আরএপি) বা বিশেষ ভিএলএপি শেল ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ৫৩ থেকে ৭২ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানতে পারে।

এছাড়াও এসএইচ-১৫ হাউইটজার প্রতি মিনিটে ৪ থেকে ৬ রাউন্ড গোলাবর্ষণ করতে পারে। এতে রয়েছে ‘শুট অ্যান্ড স্কুট’ প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে গোলাবর্ষণের পরপরই অবস্থান পরিবর্তন করে শত্রুর পাল্টা আক্রমণ এড়ানো সম্ভব।
জেনেসের তথ্য অনুযায়ী, নরিনকোর সাথে চুক্তির অংশ হিসেবে পাকিস্তান এই কামানের প্রযুক্তিগত জ্ঞানও লাভ করেছে। এর মাধ্যমে পাঞ্জাবের ট্যাক্সিলা শহরে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা শিল্প ও ভারী প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান- ‘হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ ট্যাক্সিলা’ (এইচআইটি) কারখানায় স্থানীয়ভাবে এই আর্টিলারি সিস্টেমটি তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারবে।
গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন পাকিস্তানের পূর্ব ফ্রন্টিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা— পাঞ্জাব এবং পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর সীমান্তে, বিশেষ করে গুজরানওয়ালা, শিয়ালকোট এবং জালালপুর জাত্তান অঞ্চলে এই কামানগুলো মোতায়েন করা হয়েছে।
অপরদিকে, রাজস্থান ও গুজরাটের মরুভূমি সেক্টরে পাকিস্তান এখনো তাদের পুরোনো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এম-১০৯ ট্র্যাকড স্বয়ংক্রিয় কামান ব্যবহার করছে।
সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তানের এই বিপুল সংখ্যক দূরপাল্লার তোপ মোতায়েনকে দক্ষিণ এশিয়ার সীমান্ত সামরিকীকরণের একটি বড় ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভারতের নিজস্ব আর্টিলারি আধুনিকীকরণ কর্মসূচির, বিশেষ করে কে-৯ বজ্র এবং এটিএজিএস ব্যবস্থার বিপরীতে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখার একটি প্রয়াস।
অন্যদিকে ইসলামাবাদের এই পদক্ষেপ চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ারও একটি ইঙ্গিত, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে।
পাকিস্তানি সেনাপ্রধান আসিম মুনির সম্প্রতি রাওয়ালপিন্ডিতে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, বেইজিং ও ইসলামাবাদের মধ্যকার সম্পর্ক ‘অনন্য, পরীক্ষিত এবং পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মুখেও অটল রয়েছে।’
ওই অনুষ্ঠানে পাকিস্তানে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত জিয়াং জাইদং, চীনের প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে মেজর জেনারেল ওয়াং ঝং এবং চীন মিশনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, হিন্দুস্তান টাইমস
এমএইচআর