আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম
বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে ভারতে আসা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, শিখ, জৈন সম্প্রদায়ের মানুষ অনুপ্রবেশকারী নন বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শনিবার (১ আগস্ট) পশ্চিমবঙ্গে ১৬তম ডিজিটাল জনগণনার (আদমশুমারি) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে তিনি এসব কথা বলেন।
শুভেন্দু বলেন, ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা এই রাজ্যে বা এই দেশে থাকতে পারবে না। নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে যথাযথ সতর্কতার সাথে ফেরত পাঠানো হচ্ছে এবং আগামী দিনগুলোতেও এটি অব্যাহত থাকবে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ভরণপোষণের দায়িত্ব ভারতের নয়।’
অনুপ্রবেশকারী এবং শরণার্থীদের পার্থক্য তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘সিএএ অনুযায়ী; বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ অনুপ্রবেশকারী নন, বরং তারা প্রত্যেকেই শরণার্থী।’
ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) অনুযায়ী- বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে যে হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে এসেছেন তারা ভারতীয় নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারবেন। এই নির্দিষ্ট ৬টি সম্প্রদায়ের শরণার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি মামলা দায়ের করা যাবে না এবং পুলিশও তাদের কোনো রকম হয়রানি করতে পারবে না। তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ এই আইনের আওতায় পড়েন না।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পর থেকে কোনো বৈধ প্রক্রিয়া বা পরিচয় যাচাই ছাড়াই পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে ভারতের সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ)।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী একাধিকবার বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করা এবং রাজ্য থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ করার প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তার বক্তব্য, যারা ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় পড়েন না, তারা ‘পুরোপুরি অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’। তাদের রাজ্য পুলিশ গ্রেফতার করবে, আটক করবে এবং বিএসএফের হাতে তুলে দেবে। ‘সিএএ-এর আওতায় যারা পড়ে না নেই’ – এ কথা বলে স্পষ্টত মুসলিমদের প্রতিই ইঙ্গিত করেছেন শুভেন্দু।
শুভেন্দুর এই ঘেষণার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যে বসবাসকারী কথিত অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করতে ব্যাপক অভিযান চলছে। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের জেলায় জেলায় গড়ে তোলা ‘হোল্ডিং সেন্টার’-এ রাখা হচ্ছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) এসব ব্যক্তিকে যথাযথ যাচাই ছাড়া প্রবেশ করতে না দেওয়ায় দুই দেশের মধ্যকার সীমান্ত ‘শূন্যরেখা’ বা নো-ম্যানস ল্যান্ডে বহু মানুষ মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই ভারতের এই একতরফা পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং এটি বন্ধে কূটনৈতিক চিঠি পাঠিয়েছে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
এমএইচআর