Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

আসামে বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৮২, পানিবন্দি ২ লাখ মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১২ পিএম

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮২ জনে দাঁড়িয়েছে। জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকে শুরু হেওয়া এই বন্যায় রাজ্যের পাঁচটি জেলার প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার এখনো মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। 

রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএসডিএমএ)-এর সর্বশেষ বুলেটিনে বলা হয়, শুক্রবার রাজ্যের শিবসাগরের নাজিরা এবং চরাউদেও-এর সোনারি এলাকা থেকে নতুন করে ২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এতে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮২ জনে দাঁড়িয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও শিবসাগর, গোলাঘাট, জোরহাট, নগাঁও এবং চরাইদেও—এই পাঁচটি জেলার ১৭টি রাজস্ব সার্কেল ও ৩৭৯টি গ্রাম এখনো বন্যার পানিতে প্লাবিত রয়েছে। এসব জেলার  মোট ১ লাখ ৯২ হাজার ৭৯৯ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যার মধ্যে চরাইদেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলা ৭৭ হাজার ৪৫৬ জন এবং এরপরেই রয়েছে শিবসাগর ৬৩ হাজার ৪৯২ এবং জোরহাট ৩৪ হাজার ৬৭ জন।

image

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, বন্যা দুর্গতদের জন্য বর্তমানে ৫৪টি ত্রাণ শিবির চালু রয়েছে, যেখানে প্রায় ১৩ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। আরও ২৬টি বিতরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া বাহিনী (এনডিআএফ) এবং রাজ্যে পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনী দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

এএসডিএমএ আরও জানিয়েছে, রাজ্যের প্রায় ১৫ হাজার ৪৩০ হেক্টর ফসলি জমি এখনও পানির নিচে নিমজ্জিত রয়েছে। ফলে রাজ্যজুড়ে খাদ্য সংকটও দেখা দিতে পারে। 

এদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সরকারি-বেসরকারি বিমা কোম্পানিগুলোর সাথে আগামী ৫ আগস্ট বৈঠক করবে সরকার।

উল্লেখ্য, আসামে প্রতি বছরই বর্ষাকালে বন্যা হলেও, এই বছরের বন্যাকে গত ৬০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বলে আখ্যায়িত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিবেশী রাজ্য নাগাল্যান্ড এবং আসামের পাহাড়ি অঞ্চলে রেকর্ড ভাঙা অতিবৃষ্টির ফলে নদীগুলোর পানি হঠাৎ বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে আসামের বিভিন্ন জেলায় পানি বাড়তে শুরু করে। তবে পরিস্থিতি সবচেয়ে মারাত্মক রূপ নেয় ১৯ জুলাই থেকে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া


এমএইচআর