Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

নেপালে হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষে নিহত ৩, কারফিউ জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

৩১ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম

নেপালের দক্ষিণাঞ্চলে ভারতীয় সীমান্তবর্তী সুনসারি জেলায় হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হয়েছে। পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একাধিক জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত রোববার (২৬ জুলাই) রাতে ভারত সীমান্তবর্তী সুনসারি জেলার দিওয়ানগঞ্জ গ্রামে হিন্দুদের একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়। শোভাযাত্রায় উচ্চ শব্দে গান বাজানো এবং ধর্মীয় পতাকা টাঙানোকে কেন্দ্র করে হিন্দু ও মুসলিম—দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রথমে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে তা ব্যাপক সহিংসতায় রূপ নেয়।

image

পুলিশ মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফল জানান, রোববার রাতের সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি চালালে ওম প্রকাশ মেহতা এবং জয়া প্রকাশ মেহতা নামে দুই ব্যক্তি নিহত হন। এ ঘটনায় পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সহিংসতার তীব্রতা বাড়ায় সুনসারি, সিরাহা, সারলাহি, পারসা এবং জনকপুর জেলায় কঠোর ও অনির্দিষ্টকালের কারফিউ জারি করে প্রশাসন।

image

তবে গতকাল বৃহস্পতিবার সিরাহা জেলায় কারফিউ অমান্য করে বিক্ষোভ করার সময় গণেশ যাদব নামের আরেক ব্যক্তি গুলিতে নিহত হন।

দেশের এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সবাইকে ধৈর্য ধরার এবং শান্তি ও জাতীয় সংহতি বজায় রাখার জোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ঘটনার একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণ করার অনুরোধ জানিয়ে নেপালি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, সবাই মিলে অশান্তির মেঘ দূর করি। সরকার এই সহিংসতার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করবে এবং দায়ীদের স্বচ্ছভাবে শাস্তি দেবে।’

এদিকে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং সুনসারিতে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে সরকারিভাবে ১০ লাখ নেপালি রুপি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, নেপালের সর্বশেষ (২০২১ সালের) সরকারি আদমশুমারি অনুসারে, দেশটির মোট জনসংখ্যার ২ কোটি ৩৬ লক্ষ ৭৭ হাজার বা ৮১.১৯ শতাংশ হিন্দু এবং প্রায় ১৪ লক্ষ ৮৩ হাজার বা ৫.০৯ শতাংশ মুসলিম। দেশটির  পাহাড়ি ও পার্বত্য জেলাগুলোতে মুসলিম জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি অত্যন্ত নগণ্য হলেও ভারত সীমান্তবর্তী দক্ষিণাঞ্চলীয় তেরাই বা মাধুশ প্রদেশে তাদের ঘনবসতি সবচেয়ে বেশি।

এরআগে চলতি বছরের শুরুতে ভারত সীমান্তবর্তী জেলা পারসার বীরগঞ্জে একটি টিকটক ভিডিওকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। সেই সময় বেশ কয়েকটি মসজিদ ভাঙচুর করা হয়েছিল। 

সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা

এমএইচআর