Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

চাপের মুখে নতি স্বীকার করছেন শুভেন্দু অধিকারী!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম

ভারতে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আন্দোলনকারী সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ধারাবাহিক চাপ এবং বিহার ও আসামের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

যে তিনটি প্রতিশ্রুতি পেয়ে ককরোচ জনতা পার্টি ৩৬ দিনব্যাপী আন্দোলন প্রত্যাহার করেছিল তার মধ্যে অন্যতম হলো, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি বা পুলিশি পদক্ষেপ না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি। তবে আসাম, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে শত শত শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবককে গ্রেফতার বা নজরদারির মাধ্যমে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। 

এই পরিস্থিতিতে গতকাল সোমবার কেন্দ্রীয় সরকারকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছিল সিজেপি। পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও আসামে বিক্ষোভকারীদের গ্রেফতার করার ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে কঠোর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেয় সংগঠনটি। 

সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা এক এক্স বার্তায় বলেন, ‘বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো পুলিশি ব্যবস্থা না নেওয়ার চুক্তির সম্পূর্ণ লঙ্ঘন আমরা লক্ষ্য করছি। বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে শত শত শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং দিল্লি ও অন্যান্য রাজ্যে শত শত ছাত্রকে নজরদারি ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এছাড়াও দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের খাবার ও রসদ দিয়ে সাহায্যকারী স্বেচ্ছাসেবকদের আটক করার একাধিক খবর সামনে আসছে, যা সমঝোতা পুরোপুরি লঙ্ঘন।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দাবি করছি যে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত এফআইআর অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক এবং তাদের মুক্তি দেওয়া হোক। একই সঙ্গে দিল্লি পুলিশ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, বিজেপি-সমর্থিত রাজ্যগুলোর পুলিশ (চুক্তি অনুযায়ী) ভবিষ্যতে আর কোনো এফআইআর দায়ের করবে না বলে সরকারকে লিখিত নিশ্চয়তা দিতে হবে। তা না হলে দিল্লির যন্তর মন্তরসহ দেশজুড়ে আবারও কঠোর অবস্থান কর্মসূচি শুরু করতে বাধ্য হব।’

সিজেপির এই হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রথম বিহার সরকার এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, রাজ্যটিতে নিট আন্দোলনে আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তি দেওয়ার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর পরপরই আসামের হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সরকার এক বিজ্ঞপ্তিতে আন্দোলন ঘিরে রুজু হওয়া ৫টি মামলায় আটক ১৩ জন বিক্ষোভকারীকে মুক্তি দেওয়ার কথা জানায়। 

এদিকে গত শুক্রবার কলকাতায় ধর্মতলায় নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছিল। মিছিলে যোগ দেওয়া বিক্ষোভকারীদের একাংশের হামলায় বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মী আহত হন। 

সেই ঘটনায় কলকাতার হেয়ার স্ট্রিট ও এন্টালি থানায় মোট সাতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সম্প্রতি বিধানসভায় পাস হওয়া ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিস অ্যাক্ট, ২০২৬ বা কথিত ‘অ্যান্টি-গুন্ডা আইন’-এর আওতায় এসব মামলা করা হয়। সোমবার পর্যন্ত মোট ১৬ জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।

সূত্র বলছে, মামলাগুলো প্রত্যাহারের পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে শুভেন্দুর সরকার।

ঘটনা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন, প্রকৃত শিক্ষার্থী এবং বহিরাগত বিশৃঙ্খলাকারীদের আলাদা করে দেখা হচ্ছে। পুলিশের তদন্তে এমন ৭০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে যাদের সাথে ছাত্র আন্দোলন বা সিজেপির কোনো সম্পর্ক নেই। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর আটকে রাখা হবে না। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়নি সরকার।

তবে আন্দোলন চলাকালীন সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম যথারীতি চলবে। 

সূত্র: দ্য ওয়্যাল 

এমএইচআর