আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৮ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৬ শতাধিক মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছেন।
এদের মধ্যে ১৮ জন নিহত এবং আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৬২৪ জন। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে এ তথ্য। খবর বিবিসির।
গত ২৫ জুলাই এই যুদ্ধের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য জানিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে পেন্টাগন, সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে এ তথ্য।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যে ১৮ নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন অপারেশন এপিক ফিউরি চলার সময়। বাকি চার জন গত ৭ জুলাই থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে নিহত হয়েছেন।
আর আহত ৬২৪ জনের মধ্যে ৪১৭ জন ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলার সময় আহত হয়েছেন। বাকি ২০৭ জন আহত হয়েছেন ‘অপরেশন এপিক ফিউরি’ শেষ হওয়ার পরবর্তী দিনগুলোতে।
ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে টানাপোড়েনের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশটিতে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টকম।
টানা ৪০ দিন ধরে অভিযানের পর গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষনা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে সেই যুদ্ধবিরতি ছিল একেবারেই ভঙ্গুর।
কারণ যুদ্ধবিরতির সময়েও মাঝে মাঝেই পরস্পরকে লক্ষ্য করে হামলা-পাল্টা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এর মধ্যেই গত ৫ মে ইরানে অপারেশন এপিক ফিউরির সমাপ্তি ঘোষণা করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
তবে অপারেশন এপিক ফিউরির সমাপ্তি টানলেও ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত রেখেছিল মার্কিন বাহিনী। এদিকে যুদ্ধের শুরুর দিকে হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি জাহাজ চলাচলের ওপর যে অবরোধ জারি করেছিল ইরান— সেটিও প্রত্যাহার করা হয়নি।
বেশ কিছু দিন এই অচলাবস্থা চলার পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ১৭ জুন ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক চুক্তি বা ইসলামাবাদ এমওইউ স্বাক্ষর করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ইসলামাবাদ এমওইউর অন্যতম শর্ত ছিল যে আগামী ৬০ দিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান পরস্পরকে লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ রাখবে।
তবে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে আমিরাতের ট্যাংকার জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা করার পর ৭ জুলাই থেকে ফের সংঘাত মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে।
তারপর টানা ১৩ রাত উভয়পক্ষ পরস্পরকে লক্ষ্য করে হামলা ও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। গত ২৫ জুলাই শনিবার থেকে পরস্পরের দিকে হামলা বন্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
-এমএমএস