আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪০ এএম
উত্তর ইরাকের কুর্দি নিয়ন্ত্রিত ‘খোর মোর’ গ্যাসক্ষেত্রে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এই গ্যাসক্ষেত্র থেকেই কুর্দি অঞ্চলের অধিকাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইআরআইবি জানিয়েছে, উত্তর ইরাকের কুর্দি অধ্যুষিত সুলাইমানিয়া প্রদেশে অবস্থিত খোর মোর গ্যাসক্ষেত্রে সোমবার (২৭ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে হামলা চালানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় একই সময়ে, সেখান থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে কুর্দি শাসিত অঞ্চলের রাজধানী এরবিলে কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।
ইরাকি সংবাদমাধ্যম এবং ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কনস্যুলেটের নিকটবর্তী এলাকাসহ এরবিলে অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া এরবিলের উত্তর-পূর্বে খালিফান ও সোরান এলাকার বিভিন্ন স্থানকে লক্ষ্য করে অন্তত চারটি ইরানি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
পুলিশের দাবি, সন্দেহভাজন এই ইরানি ড্রোন হামলার পর এরবিলের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের ১০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন টহল দিতে দেখা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, লক্ষ্যবস্তু করা এলাকাগুলো ও আশপাশে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় ব্যবহৃত দুটি ড্রোন লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি এসে বিধ্বস্ত হয়েছে।
এদিকে ইরানের সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় টানা হামলার পর চার দিন ধরে নীরব যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে হামলা স্থগিত রাখলেও পরিস্থিতি এখনও অস্থিতিশীল। গত কয়েক সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান।
সামরিক সংঘাতের এ বিরতির মধ্যেই শুরু হয়েছে কূটনৈতিক তৎপরতা। ট্রাম্প বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের ভালো আলোচনা চলছে, ইতিবাচক কিছু ঘটতে পারে। তবে আলোচনার জন্য বেশি সময় দেয়া হবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। দ্রুত সমঝোতা না হলে আবারও কঠোর সামরিক পদক্ষেপে ফিরবে ওয়াশিংটন এমন হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
অন্যদিকে ইরানের দাবি, তারা কোনো আলোচনার অনুরোধ জানায়নি। বরং যুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়েই যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতির আশ্রয় নিচ্ছে।
ইরানের ভাষ্য, তাদের পাল্টা হামলা ও প্রতিরোধে ওয়াশিংটন চাপে পড়েছে। তাই জাতীয় নিরাপত্তা, পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই।
এআরএম