আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৬ এএম
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে নতুন করে আশার কথা শুনিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। টানা তৃতীয় দিনের মতো উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো হামলা না হওয়ার পর তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে ‘খুবই ইতিবাচক আলোচনা’ চলছে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে আবারো সামরিক অভিযান শুরু হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
যদিও তেহরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো সরাসরি আলোচনা হচ্ছে না।
সোমবার (২৮ জুলাই) এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, ভালো কিছু হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, শুক্রবার তিনি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলা সাময়িকভাবে স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন, কারণ মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো আলোচনার জন্য আরেকটি সুযোগ দিতে অনুরোধ করেছিল। ইরানও তাদের হামলা বন্ধ রেখেছে।
প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা এবং পাল্টাপাল্টি আক্রমণের পর এই বিরতি এসেছে। এর ফলে জুন মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতি অনেকটা ভেঙে পড়ে।
সে সময় মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল বিশ্বব্যাপী তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানের হুমকি দেওয়ার সক্ষমতা দুর্বল করা।
সংঘাত প্রশমিত হতে পারে-এমন আশায় সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এক পর্যায়ে ৯ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৭.৫৯ ডলারে নেমে আসে।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প আরও বলেন, পাঁচ মাসের যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত কমে গেছে-এমন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন সঠিক নয়।
তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে প্রচুর গোলাবারুদ রয়েছে। মাঝারি ধরনের অস্ত্রও এত বেশি আছে, যা আমরা কখনোই পুরোটা ব্যবহার করতে পারব না। তবে আমি চাই, আরও বেশি উৎপাদন হোক।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, ‘বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুতগতিতে উৎপাদন করা হচ্ছে। ওই ব্যবস্থার উৎপাদন বাড়ছে। আমাদের কাছে এর পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।’
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কাছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সব কৌশলগত লক্ষ্য পূরণের জন্য প্রয়োজনের চেয়েও বেশি গোলাবারুদ ও অস্ত্র মজুত রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ দেখিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে জড়ালে কী পরিণতি হতে পারে। তার ভাষায়, ‘তারপরও প্রেসিডেন্ট প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের আরও বেশি ‘মেড ইন আমেরিকা’ অস্ত্র উৎপাদনের আহ্বান জানিয়েছেন, কারণ বিশ্বের সেরা অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রেই তৈরি হয়।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অন্যান্য স্থাপনা এবং ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
তিন মাসেরও বেশি সময় যুদ্ধের পর গত জুন মাসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে। এতে সামরিক অভিযান বন্ধ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানোর বিষয়ে সম্মত হয় দুই পক্ষ।
কিন্তু ১৩ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে ইরানি বাহিনী কয়েকটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানোর পর ওয়াশিংটন আবারও ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরু করে এবং দেশটির বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ পুনর্বহাল করে।
জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলা চালায়, যাতে চারজন মার্কিন সেনা নিহত হন।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় এ পর্যন্ত এক ডজনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। সূত্র: বিবিসি।
এমআর