Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

ফের আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি ককরোচ পার্টির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম

আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার ও হয়রানির প্রতিবাদে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকেই ফের কঠোর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তরুণদের প্রতিবাদী সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, যে তিনটি প্রতিশ্রুতি পেয়ে ককরোচ জনতা পার্টি ৩৬ দিনব্যাপী আন্দোলন প্রত্যাহার করেছিল তার মধ্যে অন্যতম হলো, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি বা পুলিশি পদক্ষেপ না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি। তবে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে শত শত শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবককে গ্রেফতার বা নজরদারির মাধ্যমে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

সোমবার সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা এক এক্স বার্তায় বলেন, ‘বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো পুলিশি ব্যবস্থা না নেওয়ার চুক্তির সম্পূর্ণ লঙ্ঘন আমরা লক্ষ্য করছি। বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে শত শত শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং দিল্লি ও অন্যান্য রাজ্যে শত শত ছাত্রকে নজরদারি ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এছাড়াও দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের খাবার ও রসদ দিয়ে সাহায্যকারী স্বেচ্ছাসেবকদের আটক করার একাধিক খবর সামনে আসছে, যা সমঝোতা পুরোপুরি লঙ্ঘন।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দাবি করছি যে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত এফআইআর অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক এবং তাদের মুক্তি দেওয়া হোক। একই সঙ্গে দিল্লি পুলিশ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, বিজেপি-সমর্থিত রাজ্যগুলোর পুলিশ (চুক্তি অনুযায়ী) ভবিষ্যতে আর কোনো এফআইআর দায়ের করবে না বলে সরকারকে লিখিত নিশ্চয়তা দিতে হবে। তা না হলে দিল্লির যন্তর মন্তরসহ দেশজুড়ে আবারও কঠোর অবস্থান কর্মসূচি শুরু করতে বাধ্য হব।’

প্রসঙ্গত, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় টানা ৩৬ দিন আন্দোলনের মুখে গত শনিবার (২৫ জুলাই) ভারতের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। এরপর সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি বা পুলিশি পদক্ষেপ না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।

তবে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের বিজেপি সরকার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থনে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর ‘শিয়ালদহ থেকে ডোরিনা ক্রসিং’ মার্চ বা বিক্ষোভের সময় ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। 

পুলিশের দাবি, আন্দোলনকারীরা পুলিশ ও সাংবাদিকদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নতুন কঠোর আইন প্রয়োগ করার কথা জানান। ইতোমধ্যেই প্রায় ১৪ জনকে গ্রেফতারের কথা স্বীকার করেছে কলকাতা পুলিশ।

অন্যদিকে বিহারেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের দাবিতে আন্দোলনে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে সেখানে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর প্রশাসনের অভিযোগ—বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ‘সরবরাহ করা বহিরাগতরা’ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে হিংসাত্মক রূপ দিতে এই বিক্ষোভে শামিল হয়েছিল। ফলে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করতে অনেক শিক্ষার্থীর ওপর কড়া নজরদারি ও ধরপাকড় চালানো হচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি, ইন্ডয়ান এক্সপ্রেস

এমএইচআর