আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১১ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৭ পিএম
জাপান-তাইওয়ানে তাণ্ডব চালিয়ে চীনের পূর্ব উপকূলের দিকে তীব্র গতিতে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন ‘বাভি’। পরিস্তিতি মোকাবিলা দেশটির উপকূলীয় এলাকাগুলো থেকে ইতিমধ্যে ১৮ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ঝড়টি ঠাণ্ডা সমুদ্রের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় এর গতি কিছুটা কমলেও এর মেঘের পরিধি বিশাল- প্রায় ফ্রান্সের সমান। ফলে অতিভারী বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের মতো ভয়াবহ দুর্যোগের ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে।
চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বিকাল ৪টা ০৮ মিনিটে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ঝেজিয়াং প্রদেশের ওয়েনলিং থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার (১২৪ মাইল) দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছিল টাইফুন বাভি। এর কেন্দ্রস্থলে একটানা বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটার (৯০ মাইল), যা ক্যাটাগরি-১ হ্যারিকেনের সমতুল্য।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামীকাল রোবার ভোরে প্রায় ১ কোটি মানুষের শহর ওয়েনঝৌ এবং এর আশেপাশে এলাকার স্থলভাগে আঘাত হানবে শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়টি।
চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি এড়াতে ঝেজিয়াং প্রদেশ থেকে ১৭ লাখের বেশি এবং পার্শ্ববর্তী ফুজিয়ান প্রদেশ থেকে আরও ১ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এই সংখ্যা ১৮ লাখেরও বেশি।
এদিকে চীনে আসার আগে এই টাইফুনটি জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জ এবং তাইওয়ানের উত্তরাঞ্চলে আঘাত হানে। দেশ দুটিতে টাইফুনের কারণে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি, তবে এর পরোক্ষ প্রভাবে সৃষ্ট প্রবল বৃষ্টি ও তীব্র বন্যায় ফিলিপাইনে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে তাইওয়ানের দমকল বিভাগ জানিয়েছে, প্রাণহানি না ঘটলেও কমপক্ষে ৮৭ জন আহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই মোটরসাইকেল বা বাইসাইকেল থেকে পড়ে গেছেন, এছাড়া অনেকে পড়ে গিয়ে বা কোনো বস্তুর আঘাতে আহত হয়েছেন।
সূত্র: রয়টার্স
এমএইচআর