Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পকে হত্যার নতুন পরিকল্পনা করেছে ইরান, দাবি ইসরায়েলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১০ জুলাই ২০২৬, ০৩:২২ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার জন্য ইরান একটি নতুন ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করেছে বলে মার্কিন প্রশাসনকে সতর্ক করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের বরাত দিয়ে প্রভাবশালী মার্কিন গণমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং সিএনএন এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি প্রকাশ করেছে। 

এমন সময় এই প্রতিবেদন সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় যুদ্ধের আশঙ্কা আবারও বাড়ছে। ন্যাটো সম্মেলন শেষে তুরস্ক ছাড়ার সময় ট্রাম্পের পুরোনো ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমান ব্যবহার নিয়েও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে সিএনএন জানায়, ট্রাম্পকে হত্যার সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন তথ্য পর্যবেক্ষণ করছে। তবে ইসরায়েলের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যটি ছিল নতুন এবং এতে একটি নির্দিষ্ট উপায়ে হত্যাচক্রান্তের উল্লেখ রয়েছে। 

একই ধরনের তথ্য প্রকাশ করেছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। পত্রিকাটি জানায়, ইসরায়েলের দেওয়া গোয়েন্দা তথ্যে ট্রাম্পকে হত্যার একটি ‘নতুন পরিকল্পনার’ কথা বলা হয়েছে।

হোয়াইট হাউস এই তথ্যের ব্যাপারে সরাসরি মন্তব্য না করে সাংবাদিকদের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বুধবারের বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করেছে।

ন্যাটো সম্মেলন শেষে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে অর্থাৎ আমাকে হত্যা করতে চায়। আমি তাদের তালিকায় এক নম্বরে আছি। আজ সকালে দেখলাম, তাদের প্রায় সব তালিকাতেই আমার নাম রয়েছে।’

এরেমধ্যেই তুরস্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় ট্রাম্প নিজের পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে তুরস্ক ত্যাগ করেন। কাতারের উপহার হিসেবে পাওয়া নতুন বিমানটি আগে থেকেই যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে পাঠানো হয়। পরে ব্রিটেনে গিয়ে তিনি সেই নতুন বিমানে উঠে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হন।

ট্রাম্পের এই বিমান পরিবর্তন নিয়ে বিভিন্ন মহলে জল্পনা তৈরি হয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালানোর পর অনেকেই ধারণা করেন, নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কারণে নতুন বিমানটি তখনও পুরোপুরি উপযোগী ছিল না। 

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের অনুরোধেই নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রাম্পের বিমান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরে এক সংবাদ সম্মেলনে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত প্রশ্নের সরাসরি জবাব এড়িয়ে গেলেও ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, অতীতেও ইরানের পক্ষ থেকে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের দেওয়া এই সুনির্দিষ্ট তথ্যটি যুক্তরাষ্ট্র এখনো নিজে থেকে পুরোপুরি যাচাই বা নিশ্চিত করতে পারেনি। 

কিছু মার্কিন কর্মকর্তার ধারণা, ইসরায়েলের বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকার হয়তো ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পকে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রভাবিত করার জন্য এই গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করে থাকতে পারে। কারণ নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে হলেও, ট্রাম্প এই যুদ্ধের সমাপ্তি টানতে চাচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে ট্রাম্পের নির্দেশে ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হন। এরপর থেকেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করে আসছে তেহরান। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর সেই দাবি আরও জোরালো হয়। এমনকি এক সপ্তাহব্যাপী খামোনি শেষ বিদায় অনুষ্ঠান ও জানাজায় অংশ নেওয়া লাখ লাখ ইরানি ট্রাম্পকে হত্যার স্লোগান এবং ব্যানার প্রদর্শন করেন। 

 

এমএইআর