আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:২১ পিএম
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেসের তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকা ৪৪০ কোটি ৪২ লাখ রুপি জব্দ করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।
বুধবার (৮ জুলাই) ইডির কলকাতা জোনাল অফিসের একটি বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, সম্প্রতি কলকাতার বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় দায়ের হওয়া একটি এফআইআর-এর সূত্র ধরে একটি মানি লন্ডারিং মামলার তদন্ত শুরু করে ইডি। অভিযোগ ছিল, তৃণমূল কংগ্রেসের কিছু ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেন এবং অর্থ পাচার করা হচ্ছিল।
ইডির প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে তৃণমূলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১৬০ কোটি রুপি ‘কেয়ারওয়েল এভিয়েশন’ নামে একটি বেসরকারি বিমান পরিষেবা সংস্থা এবং তার সহযোগী সংস্থায় স্থানান্তর করা হয়।
পরবর্তীতে সেই অর্থ ঘুরিয়ে একটি নতুন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ১১২ কোটি রুপি খরচ করে একটি একটি ‘এমব্রায়ের লেগাসি ৬০০’ বিমান এবং একটি নতুন ‘অগস্টা ১০৯ গ্র্যান্ড’ হেলিকপ্টার কেনা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, ২০২৩ সালে ওই হেলিকপ্টার কেনার জন্য কেম্যান আইল্যান্ডস-এর একটি সংস্থা থেকে ১.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ‘আনসিকিয়োর্ড লোন’ বা অসুরক্ষিত ঋণেরও ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
ইডির বিবৃতিতে সবচেয়ে বড় যে অভিযোগ করা হয়েছে তা হল, এই বিমান ও হেলিকপ্টার কেনার পর সেগুলো আবার তৃণমূল কংগ্রেসকেই ব্যবহারের জন্য ভাড়ায় বা লিজে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে যাতায়াত বাবদ পুনরায় বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন বা স্থানান্তর করা হয়, যা অত্যন্ত সন্দেহজনক।
এই মামলাকে কেন্দ্র করে ইডির কলকাতা জোনাল অফিস গতকাল মঙ্গলবার কলকাতার মোট পাঁচটি স্থানে তল্লাশি চালায়। তল্লাশি চালানো স্থানগুলোর মধ্যে কেয়ারওয়েল গ্রুপ অব কোম্পানিজের অফিস, একটি ইলেক্টোরাল ট্রাস্ট এবং একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের ঠিকানা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সেখান থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।
ইডি বলছে, এই সন্দেহজনক ও জটিল লেনদেন প্রক্রিয়ার আসল উদ্দেশ্য কী এবং এর পেছনে মূল সুবিধাভোগী কারা, তা জানার চেষ্টা করছে তদন্তকারীরা। তদন্তের স্বার্থে পিএমএলএ আইনের ১৭(১-এ) ধারা অনুযায়ী, এইচডিএফসি ব্যাংকে থাকা তৃণমূলের ৩টি অ্যাকাউন্টের ৪৪০ কোটি ৪২ লাখ রুপি সম্পূর্ণ ফ্রিজ করে রাখা হয়েছে।
মূলত, তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল ঋতব্রত বন্দ্যোপধ্যায়ের নেতৃত্বধীন বিদ্রোহী সাংসদরা। তাদের দাবি ছিল ওই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা নিয়ে চাটার্ড বিমানে ঘুরে বেড়ান মমতার ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গত জুন মাসে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে অভিষেককে ডেকেও পাঠানো হয় সংসদে।
সূত্র: দ্য ওয়াল, আনন্দবাজার
এমএইআর