আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৬ পিএম
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে রেকর্ডভাঙা তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে ইউরোপ। পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে ফ্রান্সে। দেশটিতে তাপজনিত কারণে ইতোমধ্যেই দুই হাজারের মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ফরাসি কর্তৃপক্ষ একের পর এক স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করছে, ঠিক তখনই সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির বিভিন্ন মসজিদ। উন্নত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) এই মসজিদগুলোর নামাজের হল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য সাময়িক বিশ্রামকেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছে, যেখানে গৃহহীন ও বয়স্কদের মতো তীব্র গরমে বিপর্যস্ত মানুষ আশ্রয় নিতে পারছেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের পূর্বাঞ্চলীয় শহরতলি মঁত্রইয়ের কয়েকটি মসজিদ প্রথমে এই উদ্যোগ নিয়েছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সবার জন্য দরজা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া পর থেকেই বয়োবৃদ্ধ, পথচারী ও অসুস্থ বোধ করা প্রচুর মানুষ সেখানে সাময়িক আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ চেয়ারে বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন, আবার কেউ শীতল কার্পেটে শুয়ে ক্লান্তি দূর করছেন। স্বেচ্ছাসেবীরা আগতদের মধ্যে ঠাণ্ডা পানি ও খেজুর বিতরণ করছেন।

মঁত্রই মুসলিম কাউন্সিলের সভাপতি হাসান হারমুজ জানান, তীব্র গরমে মানুষের কষ্ট দেখে তাদের এই উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত আসে। অনেকেই শীতল আশ্রয়ের জন্য খুঁজছিলেন, তাই মসজিদের দরজা সবার জন্য খুলে দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, টানা ১০ দিনের বেশি সময় ধরে চলা এই তাপপ্রবাহে পুরো সময়জুড়েই মসজিদগুলো খোলা রাখা হয়েছে। উন্নত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে মসজিদের ভেতর পরিবেশ আরামদায়ক থাকায় মানুষ সেখানে স্বস্তি পাচ্ছেন।
হাসান হারমুজ জোর দিয়ে বলেন, এই সেবা শুধু মুসলমানদের জন্য নয়, বরং যেকোনো প্রয়োজনমতো মানুষকে স্বাগত জানানো হচ্ছে। ইসলাম যে মানবিকতা ও সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়, এটি তারই প্রতিফলন।
মঁত্রইয়ের আল-ইসলাহ মসজিদের খতিব ইব্রাহিম বালহাজ বলেন, তীব্র গরমে বিশেষ করে বয়স্ক ও গৃহহীন মানুষরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন। তাদের পাশে দাঁড়াতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, মসজিদের দায়িত্ব শুধু ইবাদতে সীমাবদ্ধ নয়; সংকটের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোও এর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ফ্রান্সে ইসলামের ইতিবাচক ও মানবিক চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
ফ্রান্সজুড়ে যখন তাপপ্রবাহে সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলো হিমশিম খাচ্ছে, তখন ফ্রান্সের মসজিদের এই উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজ ও বিশ্বের কাছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, মানবিকতা এবং চরম সংকটে একাত্মতার এক শক্তিশালী বার্তা দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পশ্চিমা সমাজে ইসলাম বা মুসলমানদের নিয়ে যে নানা ধরনের ভুল ধারণা বা নেতিবাচক প্রচার থাকে, এই উদ্যোগটি তার মুখে একটি ইতিবাচক জবাব। এটি ইসলামের শান্তি, কল্যাণ ও সেবামূলক আসল রূপটি সবার সামনে তুলে ধরেছে। এছাড়াও চরম জলবায়ু সংকটের মতো কঠিন সময়ে রাষ্ট্রীয় বা সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও যে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বড় দায়িত্ব পালন করতে পারে, এটি তারই একটি চমৎকার উদাহরণ।
এমএইচআর