আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজার নামাজে ইমামতি করেছেন দেশটির শীর্ষস্থানীয় ধর্মীয় পন্ডিত আয়াতুল্লাহ শেখ জাফর সোবহানি। লাখ লাখ শোকার্ত-অশ্রুসিক্ত অনুরাগীর অংশগ্রহণে তিন ধাপে তিনটি জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। রোববার (৫ জুলাই) স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় প্রথম জানাজা শুরু হয়।
জানাজায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি ইজেই উপস্থিত ছিলেন। আরও ছিলেন খামেনির তিন ছেলে—মাসুদ, মাইসাম ও মোস্তফা। তবে অসুস্থতা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনি বাবার জানাজায় অংশ নিতে পারেননি। এ ছাড়াও জানাজায় অংশ নেন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের কমান্ডার ইসমাইল কানি।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সাত দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিক শোক ও দাফন প্রক্রিয়ার আজ রোববার দ্বিতীয় দিন। তেহরানে আজ এ নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামে। অশ্রুসিক্ত নয়নে তারা নেতার জানাজায় অংশ নেন।
তিন ধাপের জানাজায় প্রথম ধাপে শহীদ বিপ্লবী নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি হোসেইনি খামেনির মরদেহের জানাজার নামাজ আদায় করা হয়।

এরপর দ্বিতীয় ধাপে শহীদ সর্বোচ্চ নেতার কন্যা শহীদ সাইয়্যেদা বুশরা হোসেইনি খামেনি, মেয়ের জামাই শহীদ মিসবাহ আল-হুদা বাকেরি এবং পুত্রবধু শহীদ জাহরা হাদ্দাদ আদেলের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
তৃতীয় ধাপে আলী খামেনির ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মদি গোলপায়েগানির মরদেহের জানাজা হয়। এই জাহরা হলো আলী খামেনির মেয়ে শহীদ সাইয়্যেদা বুশরা হোসেইনি খামেনির শিশু-কন্যা।
জানাজার নামাজ সকাল ৬টায় অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও পরে তা পিছিয়ে সকাল ৮টায় অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মানবতার শত্রু মার্কিন সরকার ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর প্রথমেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও তার পরিবারের এই সদস্যরা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তেহরানে নিজ বাসভবনে শহীদ হন।
গতকাল শনিবার থেকে শুরু হয় এই শহীদদের প্রতি বিদায়ী শোক সম্মাননা জানানোর গণসমাবেশ, যাতে এ পর্যন্ত যোগ দিয়েছেন কয়েক মিলিয়ন বা অন্তত ২০ লাখেরও বেশি শোকার্ত মানুষ। এর আগে শনিবার শোক-সম্মাননা জানানোর অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশের উচ্চ-পদস্থ কর্মকর্তা। -পারস টুডে
ক.ম/