Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

কেন বাবার জানাজায় যোগ দিচ্ছেন না মোজতবা খামেনি?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় ও জানাজায় অংশ নিয়েছে দেশ-বিদেশের লাখো মানুষ। তবে বিশাল এই আয়োজনে খামেনির ছেলে ও নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে এখনো দেখা যায়নি। এমনকি তিনি তার পরিবারের সদস্যদের শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় উপস্থিত থাকবেন কি না সে ব্যাপারে তার কার্যালয় বা ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কিছু জানানো হয়নি।

কাতারের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ আল জাজিরাকে বলেছেন, ইসরায়েল কর্তৃক গুপ্ত হত্যার আশঙ্কা থেকেই যে ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা তার বাবার জানায় যোগ দিচ্ছেন না, তা সহজেই বোধগম্য।

তিনি বলেন, ‘ইরান আশঙ্কা করছে, জানায় অংশ নিলে সর্বোচ্চ নেতাকে লক্ষ্য করে দ্বিতীয় বারের মতো হামলা চালাতে পারে ইসরায়েল। কারণ অতীতেও ইসরায়েল প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করতে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া মিছিলকে ব্যবহার করেছে।’ 

তবে মাসগ্রেভ জোর দিয়ে বলেছেন, হুমকি সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত দেশের নেতাকে জনসমক্ষে আসা উচিত, কারণ গত কয়েকমাস ধরে তাকে দেখা যায়নি।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, শেষ পর্যন্ত ইরানকে মোজতবা খামেনিকে প্রকাশ্যে আসার একটা উপায় খুঁজে বের করতে হবে যে, এখানে কোনো গোপন সর্বোচ্চ নেতা নেই, বরং প্রকৃত ক্ষমতায় থাকা কেউ একজনই আছেন। তেহরানের যৌক্তিক নিরাপত্তা উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও, শেষ পর্যন্ত তাদের এটা করে দেখাতেই হবে।’

এরআগে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতে নিযুক্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি আয়াতুল্লাহ হাকিম এলাহি জানান, ইসরায়েলের অব্যাহত হুমকির কারণেই মোজতবা খামেনি জানাজায় উপস্থিত থাকতে পারবেন না।

এলাহি বলেন, ‘আমি গত সপ্তাহে ইরানে ছিলাম এবং আমার এমন কিছু বন্ধুর সাথে দেখা করেছিলাম যারা তার (মোজতবা খামেনি) সঙ্গে দেখা করেছে। তিনি বাইরে আসতে চান, মানুষের সঙ্গে দেখা করতে চান। কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনী তাকে আসতে দিচ্ছে না।’ 

বর্তমান পরিস্থিতিতে তার জীবনের বড় ঝুঁকি থাকায় তাকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি। 

মূলত, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সম্প্রতি মন্তব্য করেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তাদের ‘হত্যার তালিকায়’ রয়েছেন। 

যদিও কাটজের এই মন্তব্যের পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অত্যন্ত কড়া ভাষায় জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানের নেতৃত্ব বা জনগণের ওপর যেকোনো ধরনের হুমকির তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে।

তবে ইসরায়েলে ক্রমাগত হুমকির কারণেই মূলত তাকে জনসমক্ষে আসার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে অতর্কিত হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনী। সেই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ তার পরিবারের অনেকে নিহত হয়। সেইদিন অল্পের জন্য বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত হন মোজতবা। 

এরপর গত ৮ মার্চ ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন মোজতবা। তবে এখন পর্যন্ত মোজতবার কোনো ছবি, ভিডিও বা অডিও রেকর্ডিং প্রকাশিত হয়নি। এতে তার অবস্থান, শারীরিক অবস্থা এবং শাসন করার ক্ষমতা এখনও অনেকাংশেই একটি রহস্য হয়ে রয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা

এমএইচআর