আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০২ জুলাই ২০২৬, ০৬:২১ পিএম
ভারতের নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’; বলে দাবি করলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারসহ নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ঋতব্রতের নেতৃত্বে তৃণমূলের বিদ্রোহী সদস্যদের নিয়ে তৈরি ১০ জনের একটি প্রতিনিধি দল।
কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘২২ জুন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি বিশেষ অধিবেশন ছিল। অধিবেশনের পরপরই আমরা নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিতভাবে জানাই এবং কলকাতায় নির্বাচন কমিশনে দেখা করি। সেই সময় আমরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররা আজ ধৈর্য ধরে আমাদের কথা শুনেছেন। আমরা নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেছি। আমরা আশাবাদী যে নির্বাচন কমিশন শিগগিরই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে।”
অন্যদিকে, মমতার অনুগত অংশ এবং দলীয় মুখপাত্র কুণাল ঘোষ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার সমর্থনে থাকা সদস্যদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘তৃণমূল মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমস্ত কর্মী এবং সমর্থক তার সঙ্গেই আছেন। যারা আজকে নিজেদের ‘আসল’ বলে দাবি করছেন, দুই মাস আগে কমিশনে তারা যে হলফনামা দিয়েছিলেন, তার নির্দিষ্ট দুটি ফর্মে মমতাদি এবং অভিষেকের সই ছিল। আজকে ভাড়াটিয়া নিজেকে বাড়ির মালিক বলে দাবি করলে কী হবে?’। একই সঙ্গে তৃণমূলের টিকিটে জিতে আসা বিধায়কদের নতুনভাবে নির্বাচনে জেতার জন্য চ্যালেঞ্জও জানিয়েছেন।
সেই প্রসঙ্গে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের) দাবির বিষয়ে কথা বলতে চাই না। ২৯১টি আসনের সর্বত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়র ছবি ছিল, তবুও টিএমসি হেরেছে। বাংলার জনরায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে গেছে।’
দলের প্রতীক এবং তহবিল কোন শিবিরের হাতে যাবে— এই প্রশ্নের উত্তরে ঋতব্রত বলেন, ‘কোনও রকম বিতর্কের কোনও প্রশ্নই নেই। দলের দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক আমাদের সঙ্গে। সাবেক মন্ত্রীরা আমাদের সঙ্গে। কাউন্সিলররা আমাদের সঙ্গে, জেলা পরিষদের সদস্যরাও আমাদের সঙ্গে। আমরা প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি কমিশনের কাছে জমা দিয়েছি। আশা রাখি, কমিশনের তরফ থেকে দ্রুত ডাক পাব।’
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর নির্বাচিত ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৪ জন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করায় দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দাল আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। বিদ্রোহী দলটি পরে বিধানসভায় বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন জানায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে একটি নতুন ৩০ সদস্যের জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি (এনডব্লিউসি) ঘোষণা করে।
এই নতুন কমিটিতে সাবেক মন্ত্রী অরূপ রায়কে দলের চেয়ারম্যান, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়সহ চারজনকে সাধারণ সম্পাদকএবং আখরুজ্জামানকে কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে।
অন্যদিকে দলের বিরুদ্ধে গোপন বৈঠক ও বিদ্রোহীদের সঙ্গে হাত মেলানোর অভিযোগে ফিরহাদ হাকিম অরূপ বিশ্বাস, অরূপ রায়, জাভেদ খান, রথীন ঘোষ, বিপ্লব মিত্র, সাবিনা ইয়াসমিন, স্নেহাশিস চক্রবর্তীসহ দলের আট শীর্ষ নেতা ও বিধায়কদের সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (কালীঘাট তৃণমূল) থেকে বহিষ্কার করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এছাড়াও দলীয় স্বত্ব ধরে রাখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন মূল দলটিও নির্বাচন কমিশনে তাদের নতুন পদাধিকারী ও জাতীয় কর্মসমিতির তালিকা জমা দিয়েছে। এই তালিকায় মমতাই জাতীয় চেয়ারপারসন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন।
এদিকে নির্বাচন কমিশনে পাল্টাপাল্টি আবেদন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে- প্রশ্ন উঠেছে তৃণমূলের তহবিলে থাকা টাকার মালিকানা ও জোড়া ঘাস ফুলের প্রতীক মমতার কাছে থাকবে, না কি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়র শিবির তা পাবে? তবে সবকিছুই ভারতের নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
সূত্র: আনন্দবাজার
এমএইচআর