Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

হরমুজে আটকে পড়া নাবিকদের উদ্ধার অভিযান স্থগিত করল জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৬ জুন ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম

হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া ১১ হাজারেরও বেশি নাবিক ও শত শত জাহাজ সরিয়ে নেওয়ার বিশেষ কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)। ওমান উপকূলে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার পর নাবিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, বৃহস্পতিবার ওমান উপকূল থেকে মাত্র ৭ দশমিক ৫ নটিক্যাল মাইল (১৪ কিলোমিটার) দূরে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী জাহাজটির ডান পাশে অজ্ঞাত একটি প্রক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে জাহাজের ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি (এমপিএ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় একটি অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাদের কন্টেইনারবাহী জাহাজ ‘এভার লাভলি’। 

কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ‘হামলার পর জাহাজটি ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে ও তার যাত্রা অব্যাহত রেখেছে এবং জাহাজের ২১ জন নাবিকই নিরাপদে আছেন’।

এই হামলার দায় স্বীকার না করলেও ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) তেহরানের অনুমতি ছাড়া এই নৌপথ ব্যবহার করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। 

আইআরজিসির নৌবাহিনী রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের সাথে কোনো আলোচনা বা সমন্বয় ছাড়াই কিছু কর্তৃপক্ষ (ওমান ও জাতিসংঘ) হরমুজ প্রণালি পারাপারের জন্য নতুন রুটের ঘোষণা দিয়েছে। ইরান এই পরিকল্পনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক’ হিসেবে দেখছে। 

পৃথকভাবে বর্তমানের হরমুজের নিয়ন্ত্রণবারী ইরানি সংস্থা ‘পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ’ (পিজিএসএ) এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেছে, ‘পিজিএসএ নির্ধারিত কাঠামোর বাইরে কোনো নৌপথ ব্যবহার করলে জাহাজের নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা দেওয়া হবে না।’

এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের সংস্থা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ যুদ্ধের কারণে আটকে পড়া ৬০০টি জাহাজ ও সেগুলোতে অবস্থানরত প্রায় ১১ হাজার নাবিকদের সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দেন।

এক বিবৃতিতে ডোমিঙ্গেজ বলেন, সরিয়ে নেওয়ার তালিকায় থাকা জাহাজগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এখনো বহাল রয়েছে কি না, তা পুনরায় নিশ্চিত করতে তিনি পরিকল্পনাটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

তিনি  বলেন, ‘আমি সব সময়ই বলে এসেছি, নাবিকদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সবার আগে। তাই একটি সমন্বিত উদ্যোগ এবং নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, পরবর্তী স্পষ্ট ধারণা না পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার পরিকল্পনা স্থগিত থাকবে।'

ডোমিঙ্গেজ আরও জানান, বৃহস্পতিবার যে জাহাজটিতে হামলা হয়েছে, সেটি আইএমওর সরিয়ে নেওয়ার কাঠামোর আওতায় চলাচল করছিল না। 

এদিকে হোয়াইট হাউস জানায়, তারা এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে অবগত এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌচলাচল ব্যাহত করার সুযোগ ইরানকে দেওয়া হবে না।’

উল্লেখ্য, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা এবং নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি ১৪ দফার প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে এই হামলার ফলে সেই শান্তি চুক্তি এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

সূত্র: রয়টার্স


এমএইচআর