আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৫ জুন ২০২৬, ০৮:৩১ এএম
‘জীবনে এত শক্তিশালী ভূমিকম্প আগে কখনো অনুভব করিনি। মনে হচ্ছিল পুরো ভবনটাই আমার ওপর ভেঙে পড়বে।’
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর এভাবেই নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন সাংবাদিক নিকোল কোলস্টার।
বুধবার সন্ধ্যায় ভূমিকম্পের সময় তিনি কারাকাসের পালোস গ্রান্দেসের একটি আবাসিক ভবনের সপ্তম তলায় অবস্থান করছিলেন।
নিকোল জানান, ভূমিকম্পের শুরু থেকেই তিনি জানালাগুলো কাঁপতে দেখেন। আতঙ্কিত হয়ে নিজেকে নিরাপদে রাখার জন্য কী করবেন, তা বুঝতে পারছিলেন না। পরে দরজার পাশে একটি পাথরের দেয়ালের কাছে আশ্রয় নেন।
তার ভাষায়, ‘জানালাগুলো কাঁপতে দেখছিলাম। নিজেকে রক্ষার জন্য কী করব বুঝতে পারছিলাম না। শেষ পর্যন্ত দরজার পাশে একটি পাথরের দেয়ালের কাছে আশ্রয় নিয়েছিলাম, যেটিকে আমার কাছে তুলনামূলকভাবে শক্ত মনে হয়েছিল।’
বেশ কিছুক্ষণ সেখানেই অবস্থান করেন নিকোল। পরে প্রতিবেশীদের চিৎকার শুনে সবাই ভবন ছেড়ে নিচে নেমে রাস্তায় চলে যান।
নিকোল কোলস্টার বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছিল পুরো ভবনটাই আমার ওপর ভেঙে পড়বে।’
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ভেনেজুয়েলায় ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর একটি ছিল ৭ দশমিক ২ এবং অন্যটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫।
ভূমিকম্পের পর রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বাসিন্দারা দ্রুত ভবন ছেড়ে বাইরে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানার চেষ্টা করছে।
ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলো জানিয়েছেন, কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানার কাজ চলছে। তিনি বলেন, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কয়েকটি ভবনের গ্যাস-সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
এমআর