আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৩ জুন ২০২৬, ০৯:২২ পিএম
যুদ্ধ চলাকালীন ইরানের আকাশসীমায় বিধ্বস্ত হওয়া একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলট দাবি করেছেন, তার বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে তিনি আকাশে অদ্ভুত বস্তু উড়তে দেখেছিলেন, যা জেলিফিশের মতো দেখতে। এর পরপই বিশ্বজুড়ে ইরানের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, গত এপ্রিল মাসে ইরানের আকাশে মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। তবে ওই বিমানে পাইলটসহ দুজন ক্রু নিরাপদে বের হয়ে সক্ষম হয়েছিলেন। পরে দুঃসাহসিক অভিযান চালিয়ে তাদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে মার্কিন বাহিনী।
‘
চারটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, উদ্ধার হওয়ার পর গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে দেওয়া ব্রিফিংয়ে পাইলট জানান, ‘তিনি একাধিক ড্রোনকে একসাথে যুক্ত হয়ে একটি একক জেলিফিশের আকৃতিতে উড্ডয়ন করতে দেখেন, যেখানে বড় ড্রোনের নিচে ছোট ড্রোনগুলো পায়ের মতো ঝুলছিল’।
প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছে, কীভাবে ওই এফ-১৫ বিমানটি ভূপাতিত হলো তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে পাইলটের এই দাবি নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দাদের মধ্যে তীব্র মতভেদ রয়েছে. কারণ বিমান থেকে ইজেক্ট করার সময় পাইলট মাথায় আঘাত পান। এছাড়াও পূর্বে কুয়েতি বাহিনীর ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’-এ তার আরেকটি বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ইতিহাস থাকায়, এটি কোনো মানসিক ট্রমা বা মরীচিকা ছিল কি না— তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অন্যদিকে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলিফিশের আকৃতিতে একাধিক ড্রোনের উদয়নকে কারিগরি ভাষায় ‘ওয়ান-টু-মেনি মেশড নেটওয়ার্কিং’ বলা হয়। এর মাধ্যমে একজন মাত্র অপারেটর একটি বিশাল ড্রোনের ঝাঁককে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং ড্রোনগুলো নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে নির্দিষ্ট রূপ ধারণ করে।
কিছু মার্কিন গোয়েন্দাদের ধারণা, ইরান এই প্রযুক্তি তৈরিতে রাশিয়া কিংবা চীনের কারিগরি সহায়তা পেয়ে থাকতে পারে। তবে ড্রোনের এই জেলিফিশ ঝাঁক মার্কিন বিমানটি ভূপাতিত করার পেছনে সরাসরি কোনো ভূমিকা রেখেছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ নিয়ে পেন্টাগন ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো গভীর তদন্ত চালাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রের কমপক্ষে ৪২টি সামরিক বিমান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে দেশটির অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, ড্রোন, জ্বালানি ট্যাঙ্কার এবং নজরদারি বিমানও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস (সিআরএস)-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে, যা মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর- পেন্টাগন, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তথ্য গোপনীয়তার সীমাবদ্ধতা, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ক্ষয়ক্ষতির কারণ নির্ণয়ে জটিলতার কারণে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
সিআরএস বলছে, ধ্বংস হওয়া বিমানগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সবচেয়ে উন্নত যুদ্ধবিমানও রয়েছে, এরমধ্যে চারটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল, একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং টু স্টেলথ ফাইটার, একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট টু অ্যাটাক এয়ারক্রাফট।
এছাড়াও সাতটি কেসি-১৩৫ স্ট্রাটোট্যাঙ্কার রিফুয়েলিং প্লেন, একটি ই-৩ সেন্ট্রি অ্যাওয়াকস সার্ভেইল্যান্স এয়ারক্রাফট, দুটি এমসি-১৩০জে কমান্ডো টু স্পেশাল অপারেশনস এয়ারক্রাফট, একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন টু রেসকিউ হেলিকপ্টার, ২৪টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন উচ্চ-উচ্চতার সার্ভেইল্যান্স ড্রোন পুরোপুরি ধ্বংস এবং আরও ১০টি বিমান বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
সূত্র: সিএনএন, গালফ নিউজ
এমএইচআর