images

আন্তর্জাতিক

‘পুশইন’ সংকট সমাধানে বাংলাদেশ–ভারতকে আলোচনার আহ্বান জাতিসংঘের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৮ জুন ২০২৬, ১১:০৩ পিএম

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ সংকট নিরসনে উভয় পক্ষকে গঠনমূলক সংলাপ ও আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। 

বুধবার (১৭ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বৈশ্বিক সংস্থাটির এ অবস্থান ব্যক্ত করেন।

ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক জানতে চান, আন্তর্জাতিক মহলের মনোযোগ এখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা, লেবানন, দক্ষিণ সুদান ও হাইতির দিকে। কিন্তু সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থানরত কয়েকশ নারী ও শিশু মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব এই বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

জবাবে ডুজারিক বলেন, ‘মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা ভারত-বাংলাদেশ উভয় দেশেরই দায়িত্ব।’

image

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পর থেকে কোনো বৈধ প্রক্রিয়া বা পরিচয় যাচাই ছাড়াই পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী বাঙালিদের, বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

অন্যদিকে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) এসব ব্যক্তিকে যথাযথ যাচাই ছাড়া প্রবেশ করতে না দেওয়ায় দুই দেশের মধ্যকার সীমান্ত ‘শূন্যরেখা’ বা নো-ম্যানস ল্যান্ডে বহু মানুষ মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। 

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বিএসএফের অন্তত ৩৬টি ‘পুশইন’ প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। এসব ঘটনায় শিশুসহ ২০০ জনেরও বেশি মানুষ বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।

তবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, তার সরকারের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতির আওতায় শত শত ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে’ আটক করা হয়েছে এবং প্রায় পাঁচ হাজার মানুষকে ‘ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে’।

বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই ভারতের এই একতরফা পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং এটি বন্ধে কূটনৈতিক চিঠি পাঠিয়েছে।

এমএইচআর