images

আন্তর্জাতিক

শর্ত না মানলে ইরানের ওপর আবারও হামলা-অবরোধ শুরু: হেগসেথ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৮ জুন ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম

চুক্তিতে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ না করলে ইরানের ওপর আবারও কঠোর নৌ অবরোধ আরোপ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। এমনকি প্রয়োজনে সামরিক অভিযান চালানোর সতর্কতাও দিয়েছেন তিনি। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। 

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দেওয়া নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ইরান যদি তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ না করে এবং ‘পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ ত্যাগ না করে, তবে প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত।”

হেগসেথ উল্লেখ করেন যে, ওবামা আমলের পারমাণবিক চুক্তির মতো এটি অনুনয়-বিনয়ের চুক্তি নয়। মাসের পর মাস মার্কিন সামরিক চাপ এবং তীব্র অবরোধের মুখে বাধ্য হয়েই ইরান আলোচনার টেবিলে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘ইরান যদি এই চুক্তির শর্তগুলো মেনে চলতে ব্যর্থ হয়, তবে পারস্য উপসাগর তথা হরমুজ প্রণালিতে আবারও একটি ‘ইস্পাত কঠিন’ নৌ-অবরোধ আরোপ করার পূর্ণ সক্ষমতা আমাদের রয়েছে’।

কিছু ইউরোপীয় দেশ হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণ অভিযানে অংশ নিতে প্রস্তুত বলেও জানান মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। এর পাশাপাশি এই অঞ্চলে আরও বড় ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, কয়েক সপ্তাহের আলোচনা শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছেছে। এই সমঝোতার পর এখন ৬০ দিনের মধ্যে ‘চূড়ান্ত চুক্তি’ নিয়ে আলোচনার পথ তৈরি হবে। এতে ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ ধীরে ধীরে তুলে নেওয়া এবং নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে ইরান। 

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “এই প্রাথমিক চুক্তি ‘চূড়ান্ত নয়’ এবং এটি ব্যর্থ হলে বা চুক্তিটি তার মনের মতো না হলে, যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় ইরানে ভয়াবহ বোমা হামলা শুরু করবে”।

ট্রাম্পের পর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এমন মন্তব্য তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের প্রচণ্ড মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা।  

সূত্র: বিবিসি

এমএইচআর