images

আন্তর্জাতিক

‘পাকিস্তান-বাংলাদেশে হামাসের কার্যত্রম চলছে, নজর রাখছে ইসরায়েল’

১৮ জুন ২০২৬, ০৮:১০ পিএম

পাকিস্তান ও বাংলাদেশে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের কার্যকলাপ চলছে বলে দাবি করেছেন ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে হামাসের প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা প্রকাশ করে এ বিষয়ে উদ্বেগও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির জ্যেষ্ঠ নির্বাহী সম্পাদক আদিত্য রাজ কাউলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত আঞ্চলিক কূটনীতিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেন এবং চরমপন্থা দমনে ইসলামাবাদের অঙ্গীকার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নিজেদেরকে সেতুবন্ধন হিসেবে তুলে ধরার পাকিস্তানের সাম্প্রতিক প্রচেষ্টা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত আজার বলেন, ইসরায়েল পাকিস্তানকে বিশ্বাস করে না এবং দেশটির কূটনৈতিক অবস্থানকে সতর্কতার সঙ্গে দেখে।

তিনি বলেন, ‘কিছু দেশ শান্তি বলতে এমন একটি পরিস্থিতিকে বোঝে, যেখানে ইসরায়েলের অস্তিত্বই থাকবে না’। তিনি যুক্তি দেন, শান্তি সম্পর্কে ইসরায়েলের ধারণা এ অঞ্চলের কিছু পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে মৌলিকভাবে ভিন্ন।

ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, পাকিস্তানই একমাত্র দেশ নয় যার উদ্দেশ্য নিয়ে ইসরায়েল প্রশ্ন তুলেছে এবং তিনি আঞ্চলিক বিষয়ে কাতারের ভূমিকারও সমালোচনা করেন।

সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত আজারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ ছিল হামাসকে ঘিরে। তিনি দাবি করেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাসের হামলার পর থেকেই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হামাসের তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করছে ইসরায়েল। তবে তিনি স্বীকার করেন, এসব তথ্যের কিছু অংশ প্রকাশ্য সূত্র থেকে পাওয়া। তবে তার মতে, এমন আরও কিছু কার্যক্রম থাকতে পারে, যা জনসমক্ষে আসেনি। 

আজার বলেন, ‘আমরা পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হামাসের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছি।’

ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত আরও দাবি করেন, অন্য সংগঠনগুলোও ৭ অক্টোবরের হামলাকে অন্যত্র একই ধরনের অভিযান পরিচালনার মডেল হিসেবে দেখতে পারে। 

তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি গোটা অঞ্চলের সরকারগুলোর জন্য উদ্বেগের বিষয় হওয়া উচিত। পাশাপাশি তিনি জানান, পুরো বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছে ইসরায়েল।

আজার আরও অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার কিছু অংশ ইহুদিবিরোধী বক্তব্যকে উৎসাহিত করছে।

পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক মন্তব্যের উল্লেখ করে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত যুক্তি দেন, এ ধরনের বাগাড়ম্বর ইসরায়েল ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি ইসলামাবাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো অর্থপূর্ণ পরিবর্তনের ব্যাপারে আস্থাকে ক্ষুণ্ণ করে।

আঞ্চলিক কূটনীতি ও তেহরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক উদ্যোগ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে আজার বলেন, ইসরায়েল চায় ইরানকে নিয়ে যেকোনও সমঝোতায় নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং আঞ্চলিক হুমকির বিষয়গুলো যথাযথভাবে সমাধান করা হয়, তা নিশ্চিত করতে ইসরায়েল সচেষ্ট রয়েছে।

এনডিটিভি বলছে, ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের এই ধরণের মন্তব্য ৭ই অক্টোবরের হামলার পরবর্তী পরিস্থিতিকে ঘিরে চলমান উত্তেজনাকে তুলে ধরে এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে চরমপন্থী নেটওয়ার্কগুলোর সম্ভাব্য বিস্তার নিয়ে ইসরায়েলের উদ্বেগকে বিশেষভাবে প্রকাশ করে। পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হামাসের কার্যকলাপ সংক্রান্ত অভিযোগগুলো কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে বিতর্কের জন্ম দেবে বলে মনে করা হচ্ছে, বিশেষ করে যখন আঞ্চলিক শক্তিগুলো দ্রুত পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।

সূত্র: এনডিটিভি

এমএইচআর