images

আন্তর্জাতিক

চুক্তি না হলে ইরানের ওপর আবার বোমাবর্ষণ শুরু হবে: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৭ জুন ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত প্রাথমিক চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত নয়। তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, আগামী শুক্রবার জেনেভায় চূড়ান্ত সমঝোতা না হলে বা চুক্তিটি তার মনের মতো না হলে, যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় ইরানে ভয়াবহ বোমা হামলা শুরু করবে।

বুধবার ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে বৈঠককালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জাবাবে তিনি এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। 

ইরানের চুক্তিটি চূড়ান্ত কিনা জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘না, এটি চূড়ান্ত নয়। এটা একটা সমঝোতা স্মারক। আর যদি এটা আমার পছন্দ না হয়, ওরা যদি ঠিকমতো আচরণ না করে, আমরা আবার তাদের ওপর গুলি চালাতে শুরু করব, তাদের মাথার ওপর বোমা ফেলব।’

ট্রাম্প আরও বলেন, এই সমঝোতা স্মারকে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তাৎক্ষণিকভাবে তুলে নেওয়ার কোনো বিষয় নেই।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে তেহরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিলের শর্ত রয়েছে বলে যে প্রতিবেদনগুলো প্রকাশিত হয়েছে তাও নাকচ করে দিয়েছেন ট্রাম্প। 

তিনি বলেন, ‘প্রতিবেদনগুলো মিথ্যা। আমরা এক পয়সাও দিচ্ছি না। আমরা বিনিয়োগ করছি না এবং আমাদের কোনো তহবিলও নেই।’

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানে বিনিয়োগ করতে বলেননি, তবে তারা যদি স্বেচ্ছায় তা করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তার কোনো আপত্তি নেই।

এ বিষয়ে পরে আরও বিস্তারিত জানাবেন বলেও উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। 

এরআগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী একাধিক সূত্র ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘ইসলামাবাদ মেমোর‌্যান্ডম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ নামের যে ১৪ পয়েন্টের সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের কথা আছে, সেখানের একটি পয়েন্ট হলো যুদ্ধপরবর্তী ইরানের পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন বা ৩০ হাজার কোটি ডলারের একটি তহবিল গঠন। ইতোমধ্যে এ তহবিলের অর্ধেকেরও বেশি অর্থ অর্থাৎ ১৫ হাজারেরও বেশি ডলার জোগাড়ও হয়ে গেছে।

এর মূল উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির জন্য ইরানকে অনুপ্রাণিত করা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য বলেছেন ডিজিটাল মাধ্যমে ইতোমধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর করে ফেলেছে ওয়াশিংটন এবং তেহরান। ১৯ জুন জেনেভায় যা হবে— সেটি আনুষ্ঠানিকতা।

‘রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলেপমেন্ট’ নামের এ তহবিলে এ পর্যন্ত যত অর্থ এসেছে এবং ভবিষ্যতে যে অর্থ আসবে তার পুরোটাই আসবে বেসকরকারি খাত থেকে। এ তহবিলের সঙ্গে সরকারি অর্থের কোনো যোগ থাকবে না।

তহবিলের অর্থ বিনিয়োগ করা হবে ইরানের জ্বালানি, লজিস্টিকস, পণ্যপ্রস্তুত বা ম্যানুফ্যাকচারিং এবং যাতায়াত ও পরিবহন খাতে। যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চল, এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকাভিত্তিক বেশ কয়েকটি কোম্পানি ইরানের পুনর্গঠনে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে; বেশ কয়েকটি কোম্পানি তহবিলে অর্থও প্রদান করেছে।

ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, তেহরান প্রাথমিকভাবে যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির জন্য ওয়াশিংটনের কাছে ৪০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়েছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে। পরে পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তার জন্য একটি বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে এই বিনিয়োগ তহবিলটি চালু হয়।

সূত্র: আলজাজিরা


এমএইচআর