আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৬ জুন ২০২৬, ১১:০২ পিএম
চলতি বছরের শুরুতে অর্থনৈতিক মন্দার প্রতিবাদে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
দেশটির বিচার বিভাগ পরিচালিত রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম মিজান অনলাইন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে শাহারুদ কাউন্টিতে জাভাদ জামানি ও আবুলফজল সায়েদির ফাঁসি কার্যকর করা হয়। বিচার বিভাগ তাদের জানুয়ারি মাসের ‘অভ্যুত্থান চেষ্টার সশস্ত্র নেতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এতে আরও বলা হয়, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের শাসনব্যবস্থার মুখোমুখি হওয়ার উদ্দেশ্যে সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করা, জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং ইসলামি শরিয়া আইনের ‘মুহারেবা’ (সৃষ্টিকর্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা) ও ‘পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি’-এর মতো গুরুতর অপরাধে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
প্রসঙ্গত, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও ইরানি রিয়ালের রেকর্ড দরপতনের প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর ধর্মঘটের ডাক দেন রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। সেই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত। এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ এবং দিনকে দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে।
বিক্ষোভ দমনে ইতোমধ্যে ইন্টারনেট-মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ এবং সেই সঙ্গে দেশজুড়ে মোতায়েন পুলিশ-নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি মোতায়েন করেছে সেনাবাহিনী। এরপর থেকে ধীরে ধীরে বিক্ষোভ কমে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ-এর তথ্য অনুযায়ী, এই বিক্ষোভ চলাকালীন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সংঘাতে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। এছাড়াও ২২ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
উল্লেখ্য, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর মতে, চীনের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দেশ ইরান। দেশটিতে হত্যা, ধর্ষণ ও গুপ্তচরবৃত্তির মতো অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। সাধারণত ভোরবেলায় ফাঁসিতে ঝুলিয়ে অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
সোমবার জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেছেন, ইরান ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ১৮ জন বিক্ষোভকারীসহ অন্তত ৪০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা
এমএইচআর