আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৫ জুন ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
ধর্ষণের দুটি পৃথক অভিযোগে নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস বা রাজকন্যা মেটে-ম্যারিটের বড় ছেলে মারিয়াস বোর্গ হোইবিকে (২৯) ৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত।
সোমবার (১৫ জুন) অসলোর জেলা আদালতের ৩ বিচারকের একটি বেঞ্চ ১২৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে এই আদেশ ঘোষণা করে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে হোইবি রায় ঘোষণার সময় আদালতে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন না, তবে কারাগার থেকে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন।
প্রায় তিন মাস আগে শুরু হওয়া বিচার কার্যক্রমে চারটি ধর্ষণের অভিযোগ, হামলার অভিযোগ, আদালতের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগ, মাদক-সংক্রান্ত অপরাধ এবং যানবাহন চালানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধসহ হোইবির বিরুদ্ধে মোট ৪০টি পৃথক অভিযোগ আনা হয়েছিল।
ধর্ষণের অভিযোগগুলো ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে চারজন নারীকে ঘিরে। প্রতিটি ঘটনায় অভিযোগ করা হয়েছে যে ওই নারীরা হয় ঘুমিয়ে ছিলেন, নয়তো অত্যন্ত অক্ষম বা অসহায় অবস্থায় ছিলেন। এরমধ্যে সাবেক প্রেমিকা ও নরওয়েজিয়ান ইনফ্লুয়েন্সার নোরা হাকল্যান্ডকে ধারাবাহিকভাবে অপব্যবহার ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে তিনি দোষী প্রমাণিত হয়েছেন।
অপর এক সাবেক সঙ্গীকে গুরুতর শারীরিক আঘাত এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগও আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। তবে ধর্ষণের আরও দুটি অভিযোগে খালাস পেয়েছেন হোইবি। মামলার ভুক্তভোগীদের মধ্যে একমাত্র নোরা হাউকল্যান্ডের নামই প্রকাশ্যে এসেছে।
রায়ে কারাদণ্ডের পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫ লাখ ৮০ হাজার ক্রোনার (প্রায় ৬০৮৪৮ ডলার) প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও একজন ভুক্তভোগী নারীর সুরক্ষায় হোইবির বিরুদ্ধে দুই বছরের জন্য একটি নিষেধাজ্ঞা বা চলাচলের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে হোইবি ধর্ষণের সমস্ত প্রধান অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা এই জেলা আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
প্রসঙ্গত, হোইবি ২০০১ সালে যুবরাজ হাকনের সাথে তার মায়ের বিয়ের আগে পূর্ববর্তী একটি সম্পর্কের সন্তান। তিনি রাজপরিবারে বড় হলেও তার কোনো আনুষ্ঠানিক রাজকীয় উপাধি বা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নেই। তবুও এই ঘটনাটি নরওয়ের রাজতন্ত্রের জন্য একটি বড় অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
অনদিকে এই বিচার নরওয়ের রাজপরিবারের জন্য একটি কঠিন সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কারণ, হোইবির মা রাজকন্যা মেতে-মারিত গুরুতর অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছেন। একই সঙ্গে অতীতে দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে জনসমালোচনারও মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে।
সূত্র: আনাদোলু
এমএইচআর